ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ আদতে কী? সাধারণ মানুষের উপর এর কী প্রভাব পড়বে?

Published:

Delimitation Bill 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের সংসদে (Parliament of India) ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। গত ১৬ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ‘ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬’ (Delimitation Bill 2026) পেশ করা হয়েছে। সহজ ভাষায়, একে আসন পুনর্ববিন্যাস বিল বলা হচ্ছে। গত কয়েক দশক ধরেই আটকে থাকা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লোকসভা আর বিধানসভার ভোল বদলাতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু এই বিল কেন গুরুত্বপূর্ণ? সাধারণ মানুষের জীবনে এর কী প্রভাব পড়বে? বুঝে নিন ঝটপট।

কী এই ডিলিমিটেশন বিল?

আসলে একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর জনসংখ্যায় পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে নির্বাচনী এলাকাগুলির সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। সে লোকসভা হোক বা বিধানসভা। একেই বলা হয় ডিলিমিটেশন। এর মূল উদ্দেশ্য হল—প্রতিটি ভোটের মূল্য সমান রাখা আর জনসংখ্যার অনুপাতে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সাধারণত জনগণনার পর একটি বিশেষ কমিশন এই কাজটি করে থাকে।

ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬-এ কী রয়েছে?

প্রসঙ্গত, এবারের মিলে বেশ কিছু ঐতিহাসিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

১) লোকসভার আসন বৃদ্ধি- বর্তমান সময়ে লোকসভায় মোট ৫৪৬টি আসন রয়েছে। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এটি বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যগুলির জন্য ৮১৫টি আর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য মোট ৩৫টি আসন সংরক্ষিত থাকবে।

২) নারী সংরক্ষণ- এই বিলের সবথেকে বড় লক্ষ্য হল ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। সাধারণভাবেই নতুন জনগণনার পর এটি হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই এই প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

৩) শক্তিশালী কমিশন- সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতিদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা হবে। আর সেক্ষেত্রে  কমিশন একবার সীমানা চূড়ান্ত করে দিলে তা কোনও আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

৪) পিওকে নিয়ে পরিকল্পনা- পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর যদি ভবিষ্যতে ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে তাহলে সেখানেও নির্বাচন করানোর ক্ষমতা এই বিলের মাধ্যমেই কমিশনকে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চলবে ৪ মাস, কলকাতা-ঋষিকেশ স্পেশাল ট্রেন দিল রেল, জানুন রুট ও ভাড়া

সাধারণ মানুষের জীবনে ঠিক কতটা প্রভাব পড়বে?

প্রসঙ্গত, আপনার এলাকায় লোকসভা বা বিধানসভার সীমানা এই বিলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। অর্থাৎ, আপনি এখন যে কেন্দ্রের ভোটার ভবিষ্যতে হয়তো আপনি সেই কেন্দ্রের ভোটার নাও থাকতে পারেন। পাশাপাশি, সংরক্ষিত আসনের কারণে ২০২৯ সাল থেকে সংসদ বা বিধানসভায় মহিলা জনপ্রতিনিধির সংখ্যা বাড়বে। এছাড়া জনসংখ্যা অনুযায়ী আসন বিন্যাস হওয়ার কারণে আপনার একটি ভোটের গুরুত্ব রাজনীতিকে আরও সুনির্দিষ্ট করবে।