প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ১৫ বছর ধরে শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) এবার সম্পূর্ণ ভাঙনের পথে। ক্ষমতাচ্যুত হতেই একের পর এক সাংসদ থেকে বিধায়ক, প্রত্যেকেই মুখ খুলছে দলের বিরুদ্ধে। কেউ বলছেন, তাঁরা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন দুর্নীতির কথা। কিন্তু দলকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আর এবার দুর্নীতি প্রসঙ্গে মমতার ভূমিকা নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)।
দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও হয়নি কাজ
বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় জানিয়েছেন, “ বর্তমান সরকার পূর্বতন সরকারের কর্মকাণ্ডে যেখানে হাত দিচ্ছেন সেখানেই দুর্নীতির যোগ পাচ্ছেন। আমরা দুর্নীতির বিষয়ে যেটুকু জানতাম, সেটুকু জানানো হত। কিন্তু তাতে কোনও স্টেপ নেওয়া হত না কখনও।” সেই অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হত কিনা জানতে চাওয়ায় শতাব্দী রায় জানান, “না। দিদিকে বলা হলে তিনি সবসময় বলতেন ভুল বোঝাচ্ছে তোমাদের।” যদিও এই অভিযোগ আগেও তুলেছেন দলের বাকি মন্ত্রীরা। কেউ কেউ আবার বলছেন, একাধিক বিষয় নিয়ে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে করেও সুযোগই পাওয়া যায়নি শেষমেষ!
মমতার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ সাংসদের
১৫ বছর ধরে রাজনীতির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, “নেত্রী হিসাবে এতগুলো মানুষকে জলে ফেলে দেওয়াটা কি ঠিক?…দিদি তো জলে ফেলে দিয়েছেন। আপনি বলবেন দিদিকেই সবাই ফেলে দিয়ে চলে গেল, দিদিও তো এতগুলো লোককে ডুবিয়ে দিল। এই যে এতগুলো লোক অ্যারেস্ট হচ্ছে, কাকে সেফ করতে পারছেন উনি? কাকে বাঁচাতে পারছেন? এদিকে এনারাই দিদির জন্য তো লড়েছে এতগুলো বছর। সেটা তো দায় তো দিদিরও হবে। আমার মনে হচ্ছে দিদি আর দলটা চাইছে না। তাই এই মুহূর্তে যা যা স্টেপ নেওয়া উচিত ছিল সেটা নিল না। আর আমি দিদিকে মানছি না।” অভিষেকের বিরুদ্ধেও তিনি একাধিক অভিযোগ তোলেন।
আরও পড়ুন: প্রেমের ফাঁদে ফেলে একবছর ধরে চন্দননগরের তরুণীকে গণধর্ষণ! গ্রেফতার ৪
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনযাত্রা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, “অভিষেক দলে যেভাবে লিড করে, জীবনযাত্রা যেভাবে তৈরি করেছে, সেটা চোখে লাগার মতো এবং ওর চলাফেরা, ব্যবহার, এসবের জন্য ও সবার কাছে অভিযোগের কারণ। যেখানে দিদি মাটিতে বসে চা খায়, সেখানে অভিষেক মাটিতে বসে না। আর এই ক্ষোভগুলি এখন প্রকাশিত হচ্ছে।”










