বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূল সরকারের পতনের পর রাজ্যে পরিবর্তনের আলো দেখেছিল বঙ্গবাসী (Government Of West Bengal)। ভারতীয় জনতা পার্টিও দুর্নীতির বাংলায় বদল আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আর সেই সূত্র ধরেই, ক্ষমতায় আসার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই রাজ্যে সরকারি রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ 15 শতাংশ বাড়ল বলেই জানিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। গত শুক্রবার, বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সরকারি রাজস্ব নিয়ে মুখ খুলে ছিলেন তিনি।
কর না বাড়িয়ে আদায়ের ক্ষমতা বাড়াতে চায় সরকার
তৃণমূল আমলে, নানান দিক থেকে রাজ্য সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে বহুবার। এর আগে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রমাণও সামনে এনেছিল বিজেপি। বিজেপির মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও একেবারে কাগজ-কলমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন পূর্বতন সরকারের আমলে কীভাবে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে বাংলায় আর সেসব চলবে না। সে কথা অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সরকারি রাজস্ব বিভাগের আরেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, কর বা রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনেক হাতিয়ার আছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের কাছে সেসব নেই। তবে এতদিন যেসব রাস্তায় কর ফাঁকি দেওয়া হতো সেই সব জায়গা বন্ধ করে সরকারি রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো গিয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, “আমরা কর বাড়ানোর পক্ষে নই। বরং মাঝারি কর বজায় রেখেই তা আদায়ের ক্ষমতা বাড়াতে চাই।”
অবশ্যই পড়ুন: জিম্বাবুয়ে সিরিজ জিতে T20 ক্রিকেটে শীর্ষস্থান ফিরে পেল ভারত
এদিন অর্থমন্ত্রী এও বললেন, রাজ্যের ঘাড়ে বিপুল দেনা রয়েছে। সেই বোঝা কমাতে গেলে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। কিন্তু সেটা সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নয় বরং বিভিন্ন ফাঁক ফোকর ভরাট করে। একই সাথে এদিন রাজস্ব আদায়ে শিল্পের গুরুত্ব বুঝিয়ে মন্ত্রী বলেন, “রাজ্যে শিল্প বেশি এলে যেমন রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়বে, তেমনই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকাও কাজে আসবে।” মন্ত্রীর এও দাবি, শিল্প বেশি করে রাজ্যে প্রবেশ করলে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের মতো আর্থিক সংস্থা ও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে। এক কথায়, রাজ্যে শিল্পের আগমনে কার্যত সার্বিক সমস্যা মিটবে বলেই মনে করেন মন্ত্রী।










