প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গরমে ঘর ঠান্ডা করতে আমরা প্রায় সারাদিন এসি (Air Conditioner) চালিয়ে রেখে দি, আর তাতেই এয়ার কন্ডিশানারের থেকে অনেকটা জল (AC Water) রোজই অপচয় হয়ে যাচ্ছে। এদিকে আমাদের এই নদীমাতৃক দেশে আবার জলের ঘাটতিও দেখা যাচ্ছে, এমতাবস্থায় অনেকেই এসির থেকে যে জল পাইপের মাধ্যমে বেরিয়ে যাচ্ছে সেটি অন্য কাজে ব্যবহার করতে চাইছে। যার মধ্যে অন্যতম হল গাছে (Tree) এই জল ব্যবহার করা। কিন্তু আদতে এই জল ব্যবহার করা কি ঠিক হবে গাছেদের জন্যে?
এসির জল ব্যবহার করা যায় গাছে?
এসির আউটার ইউনিট থেকে বেরনো জলের TDS ভ্যালু থাকে ৪০ থেকে ৮০। তাই এই জল অনেক কাজেই লাগানো যায়। বাগানের গাছে এই জল স্বচ্ছন্দে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও ইনডোর প্ল্যান্টে এই জল দিলে একটু পানীয় জল মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। আসলে কিছু গাছ কম খনিজ উপাদানযুক্ত জলে বেশ উপকৃত হয়। সেক্ষেত্রে এসি-র জলে খনিজ উপাদান কম থাকায় মাটি ও পাতায় সাদা দাগ বা খনিজ পদার্থ জমার সম্ভাবনাও কমে যায়।
নানা কাজে ব্যবহার করা যায় জল
সবচেয়ে ভালো হয়, হচ্ছে এসির জল দেওয়ার আগে অবশ্যই pH মাত্রা পরীক্ষা করে নিতে হবে। কারণ পিএইচ অ্যাসিডিক হলে গাছের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও এসির জল গাছে দেওয়ার আগে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে ব্যবহার করা উচিত। তবে অনেকেই গাছে এই জল ব্যবহার করতে চায় না পাছে গাছ খারাপ হয়ে যাবে এই ভয়ে। তাই সেই জল হয় বাড়ি ঘর পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করা হয় অথবা গাড়ি ধোয়ার কাজে কিংবা শৌচালয়ের কাজেও ব্যবহার করা হয়। তবে এই জল কখনওই পান করা উচিত নয়। কারণ এই জল বিশুদ্ধ নয়।
আরও পড়ুন: জানেন পাকস্থলীর অ্যাসিড সহজেই গলিয়ে দেয় রেজার ব্লেড? রইল সেই তথ্য
আসলে বৈজ্ঞানিকদের কথায় এসির থেকে যে জল বাইরে বেরোয় সেটি আসলে ঘণীভবন বা কনডেন্সশন প্রক্রিয়া। এসির ভেতরে থাকে একটি বরফ ঠান্ডা ইভাপোরেটর কয়েল। ঘরের উড়ন্ত গরম বাতাস যখনই এই কনকনে ঠান্ডা কয়েলে এসে ধাক্কা খায়, তখনই বাতাসে থাকা আর্দ্রতা রাতারাতি তরল হয়ে জলে পরিণত হয় এবং পাইপের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে যায়।










