শুষ্ক মরুভূমিকে মরুদ্যানে পরিণত করল ২৮ গাধা, ৪৪ বছরে হল অসাধ্য সাধন!

Published:

Donkeys in Israel

অনন্যা সরকার, কলকাতা: প্রাচীন যুগে গাধার (Donkey) পিঠে মালপত্র চাপিয়ে দূরদূরান্ত পাড়ি দিত মানুষ। তখন থেকেই সারা বিশ্বে জুড়ে পণ্য পরিবহনের জন্য এই চারপেয়ে নিরীহ প্রাণীটির ব্যবহার হয়ে আসছে। আবার, চীনে ওষুধ শিল্পেও এদের ব্যবহার করা হয়। সেই কারণে চীন পাকিস্তান থেকে বিপুল পরিমাণে গাধা আমদানি করে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় গাধার অসাধারণ এক ক্ষমতার কথা সামনে এসেছে। পরিবেশের উন্নয়নে তারা মানুষের চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৮২ সালে, ইসরায়েল ইরান ও আফ্রিকা থেকে ২৮টি বুনো গাধাকে অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক নেগেভ মরুভূমির রোমান ক্রেটার এলাকায় ছেড়ে দিয়েছিল। এখন, ৪৪ বছর পর এই এলাকার পুরো ভূদৃশ্যটাই পাল্টে গেছে। গাধাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এই মরু অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিতে বদল এনেছে, মরুদ্যান গড়ে তুলে নতুন জীবনদান করেছে। 

ইরানের রাজার তরফে ইসরায়েলকে উপহার দেওয়া হল গাধা

বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলে বুনো গাধা চড়ে বেড়াতো, কিন্তু অতিরিক্ত শিকারের কারণে তারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইসরায়েলের কর্তা ব্যক্তিরা সংরক্ষণের জন্য এই ঐতিহাসিক অঞ্চলে পুনরায় গাধা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেন। এগুলো কোনও সাধারণ বুনো গাধা ছিল না, এগুলো ছিল ইরান ও আফ্রিকায় প্রাপ্ত দুই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বুনো গাধা। ইসরায়েল তাদের আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে এদের সংগ্রহ করে। ইরানি বিপ্লবের সময় নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলে এদের আগমন ঘটে।

ইসলামি বিপ্লবের আগে ইসরায়েলের সাথে ইরানের সম্পর্ক ছিল খুবই ভালো। ইসরায়েলের নেচার অ্যান্ড পার্ক অথরিটির ডায়রেক্টর জেনারেল আব্রাহাম ইয়োফে, ইরানের রাজা মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর সাথে রাজ পরিবারের সংরক্ষিত এলাকা থেকে এই গাধাগুলি স্থানান্তরের জন্য গোপনে আলোচনা করেন। ১৯৬৮ সালে ইরান ইসরায়েলকে ১১টি বুনো গাধা উপহার দেয়। সেগুলোকে আকাশপথে ইয়োতভাতা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীকালে ইসরায়েল তার জিনগত বৈচিত্র্যের জন্য তাদের কর্মসূচি প্রসারিত করে এবং আফ্রিকার ইথিওপিয়া থেকেও কিছু গাধা আমদানি করে।

আরও পড়ুন: তৈরি হয়েছিল ৪৫০ কোটি বছর আগে, দিনদিন কুঁকড়ে যাচ্ছে সূর্যের সবথেকে কাছের গ্রহ

এই গাধাগুলিকে বিশেষ জাহাজ ও ট্রাকে  করে ইথিওপিয়া থেকে আনা হয়। এদেরকে প্রথমে ইয়োতভাতাতে রাখা হয়েছিল। ১৯৮২ সালে, ইসরায়েলি বিজ্ঞানীরা এই গাধাগুলোকে র‍্যামন ক্রেটারে চড়ে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেয়। এখন, এই মরুভূমি এলাকাটি গাধাদের একটি প্রিয় আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে, যেখানে এখন ৫০০ থেকে ৬০০টি গাধা রয়েছে। এই গাধাগুলো ভয়াবহ খরার সময়েও টিকে ছিল।

এর পাশাপাশি, গাধাগুলির শরীর বেড়ে বেড়ে একটি ছোট ঘোড়ার আকারের হয়ে গেছে। শিকারিদের হাত থেকে বাঁচতে এরা এখন ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। এদের শরীরে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এই গাধাগুলো এখন জল ছাড়াই বেশ কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে। জল ছাড়া এদের ওজন ৩০ শতাংশ কমে যায়, কিন্তু এরা বহাল তবিয়তেই থাকে। এমনকি এরা জলের সন্ধানে গর্তও খোঁড়ে, যেখান থেকে অন্যান্য প্রাণীরা জল পান করে।

আরও Donkey Iran Israel