সহেলি মিত্র, কলকাতা: পর্যটনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হতে চলেছে। সেইদিন হয়তো খুব দূরে নয় যখন দার্জিলিং থেকে কালিম্পং (Darjeeling Kurseong Ropeway) এবং কালিম্পং থেকে রোপওয়ে চলতে দেখা যাবে। তবে এর পাশাপাশি এখন দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াং অবধি রোপওয়ের প্রস্তাব দেওয়া হল। এই রোপওয়ে ব্যবস্থার ফলে দুই জায়গার মধ্যে যাতায়াতের সময় মাত্র ৪৫ মিনিটে নেমে আসবে বলে খবর। বর্তমানে এই রুটে যাতায়াত করতে ৩-৪ ঘন্টা তো লাগেই।
এবার দার্জিলিং টু কার্শিয়াং রোপওয়ে পরিষেবা শুরু হবে?
অতি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রক ঘুম-দার্জিলিং, দার্জিলিং-বিজনবাড়ি এবং কালিম্পং-এর মধ্যে রোপওয়ে সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। এই সম্পূর্ণ প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পর্বতমালা প্রকল্প’-এর অধীনে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এখন যানজট কমাতে দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াং-এর মাঝেও নতুন রোপওয়ে পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এও জানা যাচ্ছে, পথে চার-পাঁচটি স্টেশন থাকতে পারে, যেগুলো অন্যান্য জনপ্রিয় স্থান থেকেও পর্যটকদের তুলে নেবে।
আর পড়ুনঃ বালি পাচারের নয়া ফন্দি, ট্রাক্টর ছেড়ে এবার সম্বল মোটরবাইক! ঝাড়গ্রামে গ্রেফতার ৬
সমীক্ষায় প্রকল্পটি সম্ভাবনাময় বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে BOOT (Build Own Operate Transfer) মডেলে এই কেবল-চালিত পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। শীঘ্রই বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে আগ্রহপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সরকারি সূত্রের দাবি, কার্সিয়ং থেকে দার্জিলিং যাওয়ার পথে বিশেষত ঘুমের পরের ভয়াবহ যানজট এড়াতেই এই রোপওয়ে প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এই বছরের মে মাসে সড়কপথে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে প্রায় আট ঘণ্টা সময় লেগেছিল। আমরা দেখেছি যে যাত্রীরা শিলিগুড়ি থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে কার্শিয়াং পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু যানজটের কারণে বাকি পথটুকু যেতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছিল। রোপওয়েটি চালু হয়ে গেলে, সারা বছর ধরেই কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।
বিকল্প মহা সড়কেরও প্রস্তাব রয়েছে
এদিকে দুধে, বালাসন, ধোত্রে এবং ঘুমকে সংযুক্ত করে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত একটি বিকল্প মহাসড়কের প্রস্তাবও কেন্দ্রের কাছে করা হয়েছিল। জাতীয় সড়ক ১১০ (পূর্বতন এনএইচ ৫৫) দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫,০০০ যানবাহন চলাচল করে। এই সড়কে যানবাহনের ভিড়ের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে ব্যস্ততম সময়ে এবং পর্যটনের মরসুমে। দার্জিলিং এর সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, “বালাসন হয়ে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার জন্য একটি বিকল্প পথের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। আমি আশা করি গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে মিলে রোপওয়ের সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে।”










