অনন্যা সরকার, কলকাতা: সম্প্রতি সৌরমণ্ডল সম্পর্কিত একটি গবেষণায় উঠেছে এসেছে এক অবাক করা তথ্য। সংকুচিত হচ্ছে সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধ (Mercury)। বুধের গায়ের ভাঁজগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, গ্রহটি একসময় আরও বড় ছিল। কিন্তু এখন আকারে অনেক ছোট হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বুধের ফাটল ধরা পৃষ্ঠে এধরনের সংকোচনের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। বিজ্ঞানীরা বুধের উঠে থাকা অংশগুলি এবং পাথুরে শৈলশিরাগুলোকে ‘সংকোচন কাঠামো’ বলে অভিহিত করেন। এর মধ্যে কিছু পাথুরে শৈলশিরা ১ মাইল বা প্রায় ১.৬ কিলোমিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং শত শত মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই সংকোচন আরও বাড়তে পারে।
গবেষণায় উঠে এল নয়া তথ্য
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে যে, এই সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহটি সূর্য থেকে প্রায় ৫.৮ কোটি কিমি দূরে অবস্থিত এবং এটি প্রতি ৮৮ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করা সম্পূর্ন করে। এই পাথুরে গ্রহটি ৪৫০ কোটি বছর আগে মহাকাশে ঘূর্ণায়মান গ্যাস ও ধূলিকণা থেকে গঠিত হয়েছিল। সৌরজগতের শুরুর দিনগুলি এই গ্রহ ছিল উত্তাল, কারণ সূর্যকে প্রদক্ষিণকারী মহাজাগতিক প্রস্তরগুলি ক্রমাগত অন্য বস্তুগুলির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকতো।
‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা অনুসারে, এই সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের কারণে সময়ের সাথে সাথে বুধ গ্রহ কতটা সংকুচিত হয়েছে, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে, বুধের সংকোচনের হার বুঝতে পারলে গ্রহটির বিবর্তন এবং এর রহস্যময় অভ্যন্তর সম্পর্কে অনেক তথ্যই সামনে আসবে। বুধ সংকুচিত হওয়ার ফলে এই গ্রহের পৃষ্ঠে ফাটলের সৃষ্টি হতে পারে। জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের গ্রহ বিজ্ঞানী এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক গাকু নিশিয়ামা জানিয়েছেন যে, কোটি কোটি বছর ধরে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট গর্ত ও ধ্বংসাবশেষ এই ফাটলগুলির অনেকগুলিকেই ঢেকে দিয়েছে। যেহেতু সূর্যের খুব কাছাকাছি অবস্থিত বুধ, তাই এই গ্রহ নিয়ে গবেষণা করা খুবই কঠিন।
আরও পড়ুন: জানেন পাকস্থলীর অ্যাসিড সহজেই গলিয়ে দেয় রেজার ব্লেড? রইল সেই তথ্য
তবু গবেষণা দলটির অনুমান করেছে যে, যদি ধ্বংসাবশেষ বুধের পৃষ্ঠকে আবৃত না করে রাখতো, তবে সেখানে কতগুলি ভাঁজ থাকতে পারত। বিজ্ঞানীদের গণনা অনুযায়ী, গ্রহটি আগে যা ধারণা ছিল তা থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি সংকুচিত হয়ে থাকতে পারে। অথবা এর ব্যাসার্ধ প্রায় ১১.৬ কিলোমিটার পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে। আগের একটি গবেষণায়, ব্যাসার্ধের ১ থেকে ২ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ ৪.৩ মাইল ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল। গ্রহটি কতটা সংকুচিত হয়েছে তা গণনা করার মাধ্যমে বুধের কেন্দ্র ও শীতল হওয়ার সময় এর অভ্যন্তরে ঠিক কী ঘটেছিল সে সম্পর্কিত তথ্য সামনে আসতে পারে। অধিক সংকোচনের অর্থ হতে পারে যে, বুধের একটি বৃহত্তর মেটাল কোর রয়েছে, এর মেটাল কোরে সিলিকনের মতো হালকা মৌল কম রয়েছে, অথবা এর প্রাথমিক তাপমাত্রা খুব বেশি ছিল।
আরও পড়ুন: সুইচ বোর্ডে আর থাকবে না তেলচিটে দাগ, ব্যবহার করুন এই ৩ উপাদান
প্রসঙ্গত, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESE) এবং জাপান এরোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (JAXA) যৌথ মিশন, বেপিকলম্বো (BepiColombo) আট বছরের যাত্রা শেষে বুধের নিকটবর্তী পৌঁছেছে। এবছরের শেষের দিকে এটি গ্রহটির কাছে দুটি অরবিটার স্থাপন করবে। বেপিকলম্বো টিমের সদস্য গাকু নিশিয়ামা বলেছেন, এই মিশনটি টোপোগ্রাফি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবে, যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারবেন বুধ কতটা সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া, আগে কখনও না দেখা বুধের শিলা, গর্ত ও উঁচু অংশগুলি স্বচ্ছতার সাথে দেখতে সাহায্য করবে এই মিশন। বেপিকলম্বো বুধের ভূপৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্যগুলি প্রথমবার বিশদে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে।










