১০০% শুল্কমুক্ত, ভারত-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি

Published:

India New Zealand Trade

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাণিজ্য খাতে এবার আরও শক্তিশালী হতে চলেছে ভারত। নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand Trade) সম্পন্ন হতে চলেছে আগামী ২৭ এপ্রিল। ফলে দুই দেশের মধ্যে আমদানি ও রফতানি যে আরও বৃদ্ধি পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal) এবং নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী টড ম্যাকলের উপস্থিতিতেই নয়া দিল্লিতে এই চুক্তিতে সিলমোহর পড়বে বলে খবর।

ভারত-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বিরাট বাণিজ্য চুক্তি

প্রথমেই বলে রাখি, এই চুক্তির আলোচনা শুরু হয় ২০২৫-এর ১৬ মার্চ। দীর্ঘ ৯ মাস পর ২২ ডিসেম্বর তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রয়োজন ছিল, যা ২০২৬ এর শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রক মনে করছে, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ভারতের ৮২৮৪টি রফতানি পণ্য নিউজিল্যান্ডের বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশাধিকার পাবে। বিজনেস টুডে-র এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চুক্তির আগে নিউজিল্যান্ড ভারতীয় পণ্যের উপরে গড়ে ২.২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করত, এবং বস্ত্র, সিরামিক ও অটোমোবাইল সহ প্রায় ৪৫০টি পণ্যের উপর ১০% পর্যন্ত শুল্ক ধার্য থাকত।

তবে এই চুক্তির পরে ফাইবার থেকে শুরু করে টেক্সটাইল, হস্তচালির তাঁত, গৃহস্থলীর সামগ্রীর উপর শুল্ক শূন্য হবে এবং চামড়া ও জুতা খাতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্যে আনা হচ্ছে। এমনকি ২০৩০ সালের মধ্যে এই রফতানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি ভারতের ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে নিউজিল্যান্ডের প্রবেশাধিকার বাড়বে। এতে দেশের বাজারে ওষুধের দাম অনেকটাই কমতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া অন্যান্য ভারতীয় খাতগুলির মধ্যে ক্রিড়া সামগ্রী, রাসায়নিক খাদ্য, প্রক্রিয়াকরণ, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদিও পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: রাঘব চাড্ডা সহ ৭ সাংসদকে নিয়ে রাজ্যসভা চেয়ারম্যানের বড় সিদ্ধান্ত, জয় বিজেপির

নিউজিল্যান্ড কীভাবে লাভবান হবে?

রিপোর্ট বলছে, নিউজিল্যান্ডের যে সমস্ত প্রধান রফতানি খাত লাভবান হতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল উল, ওয়াইন, কাঠ, কয়লা, ব্লুবেরি, তাজা ফল ইত্যাদি। আর এই চুক্তির আওতায় সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়বে। সেই কারণে বনজ সম্পদ থেকে শুরু করে পশুপালন, মৎস্য, মৌমাছি পালনও আরও উপকৃত হবে দেশটি। এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তথ্য অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড আগামী ১৫ বছরে ভারতে ২০ বিলিয়িন ডলারের বিদেশী বিনিয়োগকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য খাতগুলি হল—পরিকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি এবং প্রযুক্তি। এখন দেখার এই বাণিজ্যিক সম্পর্কে দুই দেশ ঠিক কতটা লাভবান হয়।