বাংলায় শীঘ্রই ছুটবে বুলেট ট্রেন? জমি সমস্যার সমাধানে রেলের বড় পদক্ষেপ

Published:

Bullet Train

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে বুলেট ট্রেন (Bullet Train) নিয়ে ততই অপেক্ষা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এদিকে সেই বিষয়টি আন্দাজ করে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সামনের বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে কিছু অংশে বুলেট ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে। মুম্বাই-আহমেদাবাদ রুটে চালু হবে প্রথম বুলেট ট্রেন। এদিকে পাইপলাইনে রয়েছে আরও বেশ কিছু বুলেট ট্রেন করিডোর। যার মধ্যে একটি আবার বাংলাতেও রয়েছে। যাইহোক, এখন জানা যাচ্ছে, মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের বিলম্ব থেকে শিক্ষা নিয়ে, সরকার এখন ভবিষ্যতের এই সাতটি করিডোরকেই মিশন মোডে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলায় শীঘ্রই ছুটবে বুলেট ট্রেন?

এর অর্থ হলো, কাজ যাতে থেমে না যায়, তা নিশ্চিত করতে এখন থেকে প্রকল্পের কাগজপত্র তৈরি এবং জমি অধিগ্রহণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মুম্বাই-আহমেদাবাদ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১.০৮ লক্ষ কোটি টাকা, কিন্তু জমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে তা বেড়ে ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সরকার একটি সমন্বিত ছাড়পত্র নীতি গ্রহণ করেছে। এখন থেকে কেন্দ্রীয়, রাজ্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমস্ত অনুমোদন একই সাথে নেওয়া হবে। এটি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ দল স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে কাজ করবে। আর তাইই যদি হয় তাহলে কি শীঘ্রই বুলেট ট্রেন ছুটতে দেখা যাবে বাংলায়? উঠছে প্রশ্ন।

বাংলা সহ ৭টি বুলেট ট্রেন করিডরের ঘোষণা কেন্দ্রের

বাংলা সহ বেশ কিছু রাজ্যে যাতে শীঘ্রই বুলেট ট্রেন প্রকল্পে গতি পায় সেজন্য রাজ্যগুলির সঙ্গে কেন্দ্রীয় রেল কর্তারা শীঘ্রই বৈঠক শুরু করবেন বলে খবর। ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে সরকার সাতটি নতুন বুলেট ট্রেন করিডোর ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মুম্বাই-পুনে, পুনে-হায়দ্রাবাদ, হায়দ্রাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি। নির্মাণকাজ দ্রুত করার জন্য এই সমস্ত রুটে নকশা একই রাখা হবে। এর ফলে ট্রেনের কোচ এবং সিগন্যাল সিস্টেম নির্মাণ সহজ হবে, যা সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করবে।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় সন্দেহজনক ১৭ লক্ষেরও বেশি রেশন কার্ড, তদন্ত করে বাতিলের নির্দেশ

এখন যে কোনও কাজ দ্রুত শুরুর আগে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে বেশি অগ্রাধিকার পাবে বলে খবর। এরইসঙ্গে এও প্রশ্ন উঠছে, বাংলা সহ বাকি ৭টি বুলেট ট্রেন করিডরের কাজ কবে শুরু হবে? কবে অন্যান্য অনুমোদিত রুটেও ছুটতে দেখা যাবে বুলেট ট্রেন? এই নিয়ে সরকারের তরফে কোনওরকম মন্তব্য করা হয়নি। সূত্রের খবর, রেল কর্তৃপক্ষ এখন প্রি-কাস্ট প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করবে। এর ফলে নির্মাণস্থলে কাজের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।