অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্তমান রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য চালু করেছে অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar)। গত সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডারের ১,৫০০ টাকার বদলে মহিলারা এখন পাচ্ছেন প্রতিমাসে ৩,০০০ করে। তবে শুধু এটিই নয়, শেয়ার বাজারের অস্থিরতা থেকে বাঁচতে ও নিশ্চিত রিটার্ন পেতে মহিলাদের জন্য রয়েছে ৫টি লাভদায়ক ইনভেস্টমেন্ট স্কিমও (Investment Schemes for Women)। এমনকি এই স্কিমগুলিতে ভবিষ্যতে টাকা হারানোর কোনও ঝুঁকিও থাকে না। বিনিয়োগের আগে চলুন জেনে নিই, কোন স্কিম থেকে পাওয়া যাবে বেশি রিটার্ন।
১. পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)
সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF) মহিলাদের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প হওয়ায়, পিপিএফ-এ বিনিয়োগ করলে টাকা থাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। এই স্কিমের মেয়াদ ১৫ বছর। তাই অবসরের পর আর্থিক সহায়তার জন্য বা ভবিষ্যতের বড় প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য বড় ফান্ড গড়ে তুলতে এই স্কিমটি খুবই উপযোগী।
পিপিএফ-এ ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধাও রয়েছে। আয়কর আইনের সেকশন ৮০সি (Section 80C) অনুসারে, বছরে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ইনভেস্টমেন্ট করলে ট্যাক্সে ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়া, পিপিএফ স্কিমে বিনিয়োগের অর্থ, সুদ ও ম্যাচিউরিটির টাকা সবই আইকর মুক্ত।
২. ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)
কর্মজীবনে অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষার জন্য এই স্কিমটি মহিলাদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। আয়কর আইনের সেকশন ৮০সি-এর অধীন ১.৫ টাকার পাশাপাশি এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে সেকশন ৮০সিসিডি (১বি)-এর অধীনে আরও ৫০,০০০ টাকার কর ছাড় মেলে। শেয়ার বাজারের সাথে যুক্ত থাকায় দীর্ঘমেয়াদি এই স্কিমে তুলনামূলকভাবে বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়। বিনিয়োগকারী ৬০ বছর বয়সের পর থেকে যতদিন বেঁচে থাকবেন, প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পেনশন পেতে থাকবেন।
৩. ইকুইটি লিঙ্কড সেভিংস স্কিম (ELSS)
সাধারণ ফিক্সড ডিপোজিটের চেয়ে বেশি রিটার্ন পেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য ইএলএসএস (ELSS) বা ট্যাক্স-সেভিং মিউচুয়াল ফান্ড একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে এতে সামান্য ঝুঁকি রয়েছে। অধিকাংশ ট্যাক্স-সেভিং স্কিমের লক-ইন পিরিয়ড থাকে ৫ থেকে ১৫ বছরের, কিন্তু ইএলএসএস-এর ক্ষেত্রে লক-ইন পিরিয়ড মাত্র ৩ বছর। এই স্কিমটিতেও ৮০সি-এর অধীনে বছরে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কর বাঁচানো যায়। যেহেতু স্কিমটি শেয়ার বাজারের উত্থান-পতনের সঙ্গে যুক্ত, তাই দীর্ঘমেয়াদে এই ফান্ড থেকে বড় অঙ্কের লাভ করা সম্ভব।
৪. সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (SSY)
কন্যা সন্তানদের উচ্চশিক্ষা ও বিয়ের খরচ জোগাড়ের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা একটি খুবই লাভদায়ক সরকারি স্কিম। এটি সরকারের সর্বোচ্চ সুদ প্রদানকারী ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে এই স্কিমে সুদের হার ৮.২%। পিপিএফ-এর মতোই এটিও ‘EEE’ (Exempt-Exempt-Exempt) ক্যাটাগরিতে পড়ে, অর্থাৎ এতেও বিনিয়োগ, অর্জিত সুদ এবং ম্যাচিউরিটির টাকার পুরোটাই ট্যাক্স-ফ্রি। বাবা-মা বা আইনি অভিভাবকদের কন্যাসন্তানের ১০ বছর বয়স হওয়ার আগে এসএসওয়াই-এর অধীনে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং তাদের ২১ বছর পূর্ণ হলে এই অ্যাকাউন্টের টাকা ম্যাচিউর হয়।
৫. ফিক্সড ডিপোজিট (FD) ও ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC)
যেসমস্ত মহিলারা ঝুঁকিপূর্ণ স্কিমে যোগ দিতে একেবারেই নারাজ এবং নির্দিষ্ট সময়ে নিশ্চিত রিটার্নের আশায় রয়েছেন, তাদের জন্য এই দুই চিরাচরিত ব্যবস্থা তো রয়েছেই।
আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রের তুলনায় কত কম বেতন পাচ্ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা? বাজেটের আগে এল হিসেব
ব্যাঙ্ক ফিক্সড ডিপোজিটের মাধ্যমে যেকোনও সরকারি/বেসরকারি ব্যাঙ্কে টাকা জমা রেখে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিশ্চিত ও স্থায়ী সুদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট হল পোস্ট অফিসের স্কিম, যা ৫ বছর মেয়াদে নিশ্চিত রিটার্নের সাথে ৮০সি ধারা অনুযায়ী কর ছাড়ের সুবিধা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলারা যদি তাদের বয়স কম থাকতে থাকতেই বিনিয়োগ শুরু করেন, তাহলে তারা যে শুধু মুদ্রাস্ফীতির হাত থেকে বাঁচবেন তাই নয়, তার সাথে যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ইমারজেন্সি ফান্ডের প্রয়োজন হলে সমস্যায় পড়তে হবে না। লক্ষ্য, ঝুঁকি এবং সময় বিবেচনা করে এনপিএস, পিপিএফ, ইএলএসএস বা এফডি-এর মতো স্কিমগুলিতে বিনিয়োগ শুরু করা উচিত।










