সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূলের অপশাসন উপড়ে ফেলে বাংলার ক্ষমতার হাল ধরেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। ২০৭ আসনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ বিজেপির। আগামী ৯ মে সরকার গঠন করবে তারা। তবে সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে (Bangladesh–India Border) বেড়া নির্মাণে জমি বরাদ্দ করবে বিজেপি, এমনটাই জানিয়েছেন অমিত শাহ (Amit Shah)। মমতা ব্যানার্জির শাসনকালে সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। এবার সেই বাড়বাড়ন্ত রুখতেই বড় সিদ্ধান্ত ভারতীয় জনতা পার্টির।
৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জমি
বলাবাহুল্য, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য বিএসএফকে দোষারোপ করে থাকেন। তবে আসল সত্যি হল ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমিই রাজ্য সরকার বরাদ্দ করতে পারেনি। বিজেপির দাবি, এই অনুপ্রবেশকারীরাই প্রাক্তন শাসক দল অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু যেহেতু এবার তৃণমূল সরকারের পতন হয়েছে, তাই বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন যে, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে বেড়ার জন্য জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
দেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিজেপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। রাজ্যে শাসনের মান দিনের পর দিন হ্রাস পেয়েছে। নাগরিকরা দিনের পর দিন অসন্তোষ প্রকাশ করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে পশ্চিমবঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন শাহ। তারই মধ্যে সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ে জমি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘আরজি কর আন্দোলনে মমতা সরকার ফেলার চেষ্টা অভিষেকের!’ বিস্ফোরক তৃণমূল নেতা
না বললেই নয়, ২০২১ সালে বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ-র কার্য পরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে ৫০ কিলোমিটার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। তবে মমতা ব্যানার্জি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কেন্দ্র সরকার একাধিকবার সিএএ এবং এনআরসি আইন নিয়ে সরব হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়ন হতে দেননি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তাঁর ছত্রছায়ায় অনুপ্রবেশ একেবারে মাথাচাড়া দিয়ে বেড়েছিল। আর এখন যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেস ভূপতিত হয়েছে, তাই সীমান্তে বেড়া নির্মাণ হলে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার, বিএসএফ এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে সীমান্ত কতটা নজরদারিতে আনতে পারে এনডিএ সরকার।










