পদত্যাগের হিড়িক শিক্ষা দফতরে, প্রভাব পড়বে পড়ুয়াদের ওপর?

Published:

Government of West Bengal

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ নতুন সরকার (Government of West Bengal) গঠন হতে না হতেই পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গেল সরকারি দফতরগুলিতে। আচমকা কী এমন হল? নিশ্চয়ই ভাবছেন, তাহলে চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক। আসলে বাংলার মসনদে বসতে না বসতেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার। বিজেপি সরকার সোমবার স্কুল সার্ভিস কমিশনসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও নিয়োগ সংস্থার মনোনীত সভাপতি এবং চেয়ারম্যানদের মেয়াদ অবিলম্বে বাতিল করেছে। এরপর থেকেই স্কুল ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থা থেকে সভাপতি, চেয়ারপার্সন এবং সচিবরা পদত্যাগ শুরু করেছেন।

পদত্যাগের হিড়িক সরকারি দফতরগুলিতে

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে স্কুল সার্ভিস কমিশনসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও নিয়োগ সংস্থার মনোনীত সভাপতি এবং চেয়ারম্যানদের মেয়াদ অবিলম্বে বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাপতি ও চেয়ারপার্সনদের পাশাপাশি পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের মনোনীত সদস্যদেরও অপসারণ করা হয়েছে। সরকার আরও বলেছে যে, বিভিন্ন বিভাগে ৬০ বছর অবসর গ্রহণের বয়সের পরেও পুনঃনিয়োগ বা মেয়াদ বৃদ্ধিতে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার চাকরিও অবিলম্বে সমাপ্ত করা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল ২০২৬-র NEET পরীক্ষা, ফের মূল্যায়নের ঘোষণা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ২০১১ সাল থেকে সময়ে সময়ে রাজ্য মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরিষদের সভাপতি ও প্রধানদের নিযুক্ত করে আসছিল। এখন অপসারিতদের অনেকেই সম্ভবত তাদের মূল প্রতিষ্ঠানে, যেমন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে, ফিরে যাবেন, যেখানে তারা প্রশাসনিক কাজে ছুটি নেওয়ার আগে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজ্য মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদ) অ্যাডহক কমিটির প্রধান রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বারাসাতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে ফিরবেন। তিনি ইতিমধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন, অন্যদিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সিদ্ধার্থ মজুমদার পদত্যাগ করবেন বলে খবর। যদিও এই পদত্যাগের কারণে বহু শিক্ষক শিক্ষক থেকে শুরু করে বহু স্কুল পড়ুয়ার ওপর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কতটা প্রভাব পড়বে শিক্ষক, পড়ুয়াদের ওপর?

যেহেতু এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে একাদশ–দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং এখন চলছে, এর পাশাপাশি নবম–দশমের নথি যাচাই, শিক্ষাকর্মী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষাও হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোবে। সেক্ষেত্রে এই অবস্থায় এসএসসি–র চেয়ারপার্সনের পদত্যাগে নিয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে। শুরু হয়েছে চর্চা। এখন দেখার আগামী দিনে কী হয়।