ট্রাম্প-জিনপিংয়ের বৈঠকের মধ্যেই মোদী ও রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর সাক্ষাৎ! বড় কিছু হচ্ছে?

Published:

Narendra Modi

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গোটা বিশ্বের কূটনীতিতে এবার টানটান উত্তেজনা। একদিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বেজিং-এ চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন, ঠিক অন্যদিকে ভারতের মাটিতে একজোট হয়ে গেল ব্রিকস (BRICS) রাষ্ট্রগুলির বিদেশ মন্ত্রীরা। এমনকি তারই মধ্যে মোদীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পাঁচ দেশের সরকারি সফরে রওনা হওয়ার ঠিক আগেই রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এদিকে আবার একইসঙ্গে ইরানের বিদেশ মন্ত্রি সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি আলাদাভাবে বৈঠকে বসেছেন ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের মতে, এই বৈঠকগুলির টাইমিং সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।

লাভরভের সঙ্গে মোদীর বৈঠক

উল্লেখ্য, বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে একমাত্র রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রী লাভরভের সঙ্গে আলাদা ভাবে বৈঠকে বসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ২৩ তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক যে আরও অগ্রগতির দিকে এগোচ্ছে সেই খতিয়ানই মোদীর সামনে তুলে ধরেন লাভরভ। এদিকে ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। আর এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের পুরনো অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, সংলাপ এবং কূটনীতি যে কোনও সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায়।

প্রসঙ্গত, বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে, উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি আর গ্লোবাল সাউথের আশা আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরার জন্যই ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ভারতের সভাপতিত্বে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। আর ভূ-রাজনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য একসঙ্গে কাজ করব। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেজিংয়ে ট্রাম্প ও জিনপিং এর বৈঠকও যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন মোড় নেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বেজিং থেকে কী বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

অন্যদিকে চিনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জিনপিং এর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজনের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, আমেরিকার স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য চিনের সঙ্গে কিছু বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের কথায় উঠে আসছে ইরানের সংকট। ট্রাম্প বলেছেন, আমরা চাই ইরান সংকটের অবসান হোক। আর আমরা কোনও ভাবেই চাই না যে ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকুক। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী যেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খোলা থাকে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। আর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিনপিং আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আরও পড়ুন: টার্গেট অনুপ্রবেশকারী মুক্ত বাংলা, BSF-কে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু রাজ্য সরকারের

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের যুদ্ধ আজ ৭৬ দিন এবং যুদ্ধবিরতির সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্রিকসের উপর। গত মার্চ মাসেই ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে দিয়েছে। আর এই পথ দিয়ে যেহেতু বিশ্ব বাণিজ্যের ২০% তেল এবং এলএনজি পরিবাহিত হয়, তাই গোটা বিশ্বে জ্বালানি সংকট মাথাচরা দিয়ে বেড়েছে। এমনকি ইরান ভারত ও চিনকে ছাড় দিলেও ইসলামিক রেগুলেশনারি গার্ড কর্পসের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচল সেখানে অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আর ভারতের জাহাজের উপরে হামলাও চলছে। এখন দেখার রাষ্ট্রীয় নেতাদের এই কূটনৈতিক বৈঠক আদৌ কোনও প্রভাব ফেলে কিনা।