সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ অভাব নিত্যসঙ্গী। এক কামরায় সকলের সঙ্গে থাকা। তবে তাতে কী! অভাব তো আর মেধাকে আটকে রাখতে পারে না, আর সেই কথাটাই যেন প্রমাণ করে ছাড়ল উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬-এর (HS Exam 2026) চতুর্থ স্থানে থাকা ফৈজল। তাঁর ও তাঁর পরিবারের সংগ্রামের কাহিনী আপনারও চোখে জল আনতে বাধ্য।
উচ্চ মাধ্যমিকে চতুর্থ ফৈজলের কাহিনী
উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার কড়েয়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম ফৈজল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫০০-র মধ্যে ৪৯৩ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সে, তাঁর পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না। অভাব যেখানে নিত্য সঙ্গী, সেই পরিবারের ছেলে এত ভালো রেজাল্ট কীভাবে করল তা সত্যিই অনেকের ধারণার বাইরে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ফৈজলেরা চার ভাই-দুই বোন। কড়েয়া এলাকায় এক কামরার ভাড়া ঘরে তাঁদের সংসার। বাবা চায়ের দোকান চালান পার্ক সার্কাস এলাকায়। মা গৃহবধূ দুই দিদি বড় হওয়ায় সামান্য রোজগার করে। এত বড় পরিবার এবং এক কামরার ঘরে রাতে পড়তে বসলে অসুবিধা হত পরিবারের সদস্যদের, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ফৈজলের অদম্য জেদ এবং ইচ্ছার মুখ চেয়ে কেউ কোনও কথা বলেনি।
কী বলছে ফৈজল?
এরকম অধ্যাবসার ফল তো পাওয়ারই কথা ছিল। ক্যালকাটা মাদ্রাসা এপি ডিপার্টমেন্ট-এর পড়ুয়া ফৈজল বর্তমানে গোটা রাজ্যে চতুর্থ স্থান পেয়েছেন। উর্দুতে ১০০-এ ১০০ , ইংরেজিতে ৯৮, হিসাবশাস্ত্রে ৯৬ অর্থনীতিতে ১০০-এ ১০০ এবং বিজনেস স্টাডিজ-এ ৯৯ মার্কস এনে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে। এরকম রেজাল্ট প্রসঙ্গে ফৈজল জানায়, ‘আমি শুধু চেষ্টা করে গিয়েছি। ফল কী হবে সেটা কখনও ভাবিনি। স্কুলের শিক্ষক এবং আমার পরিবারের সদস্যেরা সব সময়ে পাশে থেকেছেন।’
আরও পড়ুনঃ টার্গেট অনুপ্রবেশকারী মুক্ত বাংলা, BSF-কে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু রাজ্য সরকারের
একটা ঘরে এত মানুষ তার ওপর রাত জেগে পড়াশোনা করতে অসুবিধা হত নিশ্চয়ই? প্রশ্নের উত্তরে পড়ুয়া জানায়, ‘প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতে সমস্যা হত। কিন্তু এখন আর হয় না।’ ভবিষ্যতে ফৈজলের কী হওয়ার ইচ্ছা? সে জানায়, ‘বাবা-মা দাদা-দিদিদের মুখে হাসি ফোটানোই আমার লক্ষ্য। আমাদের থাকার জায়গা নেই। একটা বাড়ি বানিয়ে বাবাকে উপহার দিতে চাই।’ তাঁর এরকম সাফল্যের জন্য Indiahood.in -এর তরফে ফৈজলকে অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।










