সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় আত্মগোপন করে থাকা বহু বিতর্কিত ইসলামিক প্রচারক জাকির নায়েকের (Zakir Naik) ওপর সম্প্রতি রিপাবলিক মিডিয়া নেটওয়ার্ক একটি আন্ডারকভার স্টিং অপারেশন চালায়। গুয়াহাটি ব্যুরো চিফ অনিরুদ্ধ ভকত মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার তামারা রেসিডেন্সির টাওয়ার সি-এ জাকির নায়েকের সঙ্গে আনুমানিক ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট মতো বৈঠক করেন। আর সেখান থেকেই উন্মোচিত হয় একাধিক রহস্য। প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থনের বার্তা দিলেন ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।
জাকির নায়েকের ওপর স্টিং অপারেশন
সম্প্রতি অনিরুদ্ধ ভকত হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জাকির নায়েকের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এই বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। মালয়েশিয়ার পুলিশ, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং দুই দেহরক্ষীকে পেরিয়েই তিনি জাকির নায়েকের অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকেন বলে খবর। তবে স্টিং অপারেশনের রেকর্ড হওয়া কথোপকথনে জাকির নায়েক ভারতে ফেরার বিষয়ে বলেন, “আফটার বিজেপি গোজ।” অর্থাৎ বিজেপি চলে যাওয়ার পর তিনি দেশে ফিরতে চান।
এমনকি তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ২০১৯ সালের নির্বাচন পর্যন্ত টিকবে না। আর টিকলেও জিততে পারবে না। পাশাপাশি তিনি ককরোচদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি উঠছে, সেখানে বিজেপির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নায়েক আরও বলেন, তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটকে পছন্দ করেন, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন। রাহুল গান্ধীকে তিনি অভিজ্ঞতাহীন বললেও মোদীর চেয়ে ভালো বলে মন্তব্য করেন।
Zakir Naik Sting Operation:
How The Terror Preacher Was TrackedRepublic Media Network’s Guwahati bureau chief Aniruddha Bhakat carried out an undercover sting on fugitive preacher Zakir Naik in Kuala Lumpur in early October. Bhakat contacted Naik through a close aide on… pic.twitter.com/Be6dtHkeiN
— Augadh (@AugadhBhudeva) October 21, 2026
আরও পড়ুন: দশমীর রাতে মধ্যযুগীয় বর্বরতা তৃণমূলের! মালদায় বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে খুন
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, জাকির নায়েক ২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে এনআইএ ইউপিআএ আইনে তদন্ত, ইডি মানি লন্ডারিং মামলা এবং মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে একাধিক অভিযোগে মামলা চলছে। এই স্টিং অভিযানে তিনি এসবকে শুধুমাত্র অভিযোগ বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন। রিপাবলিক মিডিয়ার এই অপারেশন ভারতীয় রাজনীতিতে যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন নিয়েও বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হল নয়া বিতর্ক।










