শুধু প্রতীক ফ্রিজ না, মনোনয়নও আটকে দুই তৃণমূলের! প্রার্থী দিতে পারবেন ঋতব্রত, মমতারা?

Published:

West Bengal Bypoll 2026

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীক (TMC Symbol Fridge) ফ্রিজ নিয়ে রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। গতকাল, বৃহস্পতিবার, নির্বাচন কমিশন (Election commission Of India) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে রাজ্যের দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে (West Bengal Bypoll 2026) জোড়াফুল প্রতীকে লড়াই করতে পারবে না। স্পষ্ট নির্দেশ, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) নামও ব্যবহার করা যাবে না এবং বেছে নিতে হবে বিকল্প নাম। অর্থাৎ উপনির্বাচনে লড়তে হলে অন্য প্রতীক ও নামে লড়তে হবে ঋতব্রত দল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে। আজ, শুক্রবার বেলা ১১টার মধ্যে সেই নাম ও প্রতীক জমা দিতে হবে।

তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ কমিশনের

পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের রাজনীতিতে একটা আবেগের নাম ছিল, কিন্তু আজ এক লহমায় সেই প্রতীকের দখলই চলে গেল নির্বাচন কমিশনের ‘সাময়িক নিয়ন্ত্রণে’। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন, ঠিক তার আগেই বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশিকা জারি করে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে। শেষে নাটকীয় পরিস্থিতিতে রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই আপাতত মুলতুবি রেখে সময়সীমা বাড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

যাচাই পর্বের ফয়সালা মুলতুবি রাখা হয়েছে

জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে নন্দীগ্রামে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে সঞ্চিতা প্রধান দে ও ঋতব্রত শিবিরের তরফে এতেশামুল হক এবং রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী ও ঋতব্রত শিবিরের সফিউজ্জামান শেখ (হাবিব মাস্টার) দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু যাচাই-পর্বেই দেখা গেল প্রতীক নিয়ে ব্যাপক জটিলতা দেখা দিয়েছিল। এরপর দুই জেলার রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা চেয়েছিলেন। তখন কমিশনের তরফে বলা হয়, আজ, শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত যাচাই-পর্বের ফয়সালা মুলতুবি রাখা হচ্ছে। এবং রাতে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। তারা আজ সকাল ১১ টার মধ্যে তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

আরও পড়ুন: বদলে গেল পাসপোর্টের নিয়ম, নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

জানা গিয়েছে, গতকাল, বহরমপুরে জেলা প্রশাসনিক ভবনে রিটার্নিং অফিসারের ঘরে যাচাই-পর্বে রেজিনগর কেন্দ্রের ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়ন গৃহীত হয়েছিল। জেলা প্রশাসন সূত্রের বক্তব্য, তৃণমূলের দুই শিবিরের দুই প্রার্থীর একই প্রতীক জমা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্য প্রার্থী। তার পরে প্রক্রিয়া মুলতুবি হয়েছে। উল্লেখ্য, কে আসল তৃণমূল, শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে নাম, প্রতীক…এই নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, ‘‘বিরোধীরা অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়ছে। আর আমরা প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করার জন্য লড়াই করছি।’’এখন দেখার দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের জবাব কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সব মহল।