সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: হেরেছেন তিনি। অথচ হার স্বীকার করতে নারাজ। বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে এ যেন এক অনন্য নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার তাঁরও গলায় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সুর শোনা গেল। হ্যাঁ, নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্যে বিজেপির প্রভাব ঠেকাতে এবার কিনা বামফ্রন্ট এবং অতি-বাম সংগঠনগুলির কাছেই সাহায্যের আবেদন জানালেন তৃণমূলের (Trinamool Congress) সুপ্রিমো। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিন যিনি বামেদের কট্টর প্রতিপক্ষ ছিলেন, তাঁর এখন মনোভাব নমনীয়।
বিজেপি বিরোধী ঐক্য করতে বামেদের আহ্বান
আজ রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে কালীঘাটে অনুষ্ঠান পালনের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বামপন্থী দলগুলির কাছে জোট বাঁধার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলার পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই জটিল। এই মুহূর্তে যত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র বা যুব সংগঠন রয়েছে তাদেরকে সবাইকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে একজোট হওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। আমার কোনও রকম ব্যক্তিগত অহংকার বা ইগো নেই। লেফটিস্ট বা আলট্রা লেফটিস্ট, সবাইকে নিয়েই আমি চলতে চাই।
এদিকে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের দাবি করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে হারেনি। ষড়যন্ত্র করেই তাদেরকে হারানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা হারিনি। জাতীয় স্তরের অনেক বিরোধী নেতাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আর আজ থেকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই শুরু হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, আজ থেকে নীতি এবং নৈতিকতার লড়াই শুরু হল।
আরও পড়ুন: ‘চারবার মারার চেষ্টা শুভেন্দুকে!’ ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হতেই মুখ খুললেন মা
উল্লেখ্য, দিল্লি থেকে ফেরার পথে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বিমানে ‘চোর চোর’ বলে হেনস্থা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, যারা রাজ্যে রিগিং করতে এসেছিল, তারাই বিমানে মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে অশালীন আচরণ করছে। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের উপর হওয়া হামলা এবং মহিলাদের হেনস্তার ঘটনা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ২০১১ এর কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, তিনি ক্ষমতায় এসে কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দেখাননি। উদাহরণ হিসেবে জানান যে, তৎকালীন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সুরক্ষার জন্য তিনি নাকি নিজের বুলেটপ্রুফ গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনের পর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। হিংসার রাজনীতি খেলছে বিজেপি।










