সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এ বছরের মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য (Madhyamik Result 2026) পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-ছাত্রীদের। মেধা তালিকায় দক্ষিণবঙ্গ তো নজর কেড়েছেই। তবে তার মধ্যেই জঙ্গলমহল এবার নয়া নজির সৃষ্টি করল। হ্যাঁ, মেধা তালিকার প্রথম ১০ এর মধ্যে রয়েছে ১৩১ জন। কিন্তু তার মধ্যে ২৬ জনই জঙ্গলমহলের বাসিন্দা। জানা যাচ্ছে, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর এই তিন জেলা থেকে উঠে আসছে কৃতি ছাত্র-ছাত্রীরা। তবে এসবের মাঝে সবথেকে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে প্রান্তিক জনজাতির লড়াইয়ের কাহিনী।
বিরহোড় জনজাতির ১০০ শতাংশই সাফল্য
উল্লেখ্য, রাজ্যের অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া এবং লুপ্তপ্রায় বিরহোড় জনজাতি এবার শিক্ষাক্ষেত্রে যেন আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির ভূপতি পল্লির দুই কন্যা এবং দুই পুত্র মোট চারজন এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। আর তাঁরা প্রত্যেকেই পাস করেছে। তারা চারজন হল—শিশুপাল শিকারী, ববি শিকারী, ভারতী শিকারী এবং লক্ষ্মীমণি শিকারী, যার মধ্যে শিশুপাল ২৯৫ নম্বর পেয়ে সেরা হয়েছে। এই পরিবারের প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী তাঁরা। বাগমুন্ডি স্কুল পরিদর্শক অভিষেক পাল বলেছেন যে, তাঁদের সাফল্য সত্যিই ঐতিহাসিক। তাঁরা যাতে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারে তার সমস্ত দায়ভার নেবে প্রশাসন।
তবে পিছিয়ে পড়েনি আদিম শবর জনজাতীও। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থানার মৌলা গ্রামের নিরুপম শবর মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবার ৪৫৭ নম্বর পেয়ে এ গ্রেড পেয়েছে। জানা যাচ্ছে, তাঁর বাবা জঙ্গলের কাঠ আর পাতা বিক্রি করে দিনমজুরি করেন। খুব কষ্টের মধ্য দিয়েই তাঁর পড়াশুনার খরচ জোগাড় করেছেন তিনি। শুশুনিয়া একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল হাইস্কুলের এই ছাত্রের সাফল্যে গোটা জঙ্গলমহল খুশি।
মেধা তালিকায় দাপট দেখাচ্ছে জঙ্গলমহল
উল্লেখ্য, এবারের মেধা তালিকায় জঙ্গলমহলের ২৬ জন কৃতি নিজেদের জায়গা দখল করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, বাঁকুড়া বরাবরের মতো জঙ্গলমহলের জেলাগুলির মধ্যে সেরা। তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থান সহ একাধিক র্যাঙ্ক রয়েছে এই জেলায়। পাশাপাশি পুরুলিয়ায় মেধা তালিকায় রয়েছে মোট নয়জন। হুগলির সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চম স্থান রেকর্ড করেছে পুরুলিয়া। পশ্চিম মেদিনীপুরে রয়েছে তিনজন কৃতি পড়ুয়া।
আরও পড়ুন: স্লিপারের টিকিট কেটে যেতে পারবেন এসি ক্লাসে, শুধু করতে হবে এই কাজ
তবে ২০০৯ সালে প্রথম বিরহোড় জনজাতি থেকে মাধ্যমিক পাস করে পথ দেখিয়েছিলেন কাঞ্চন এবং সীতারাম শিকারী। তাই এবারের সফল ছাত্র শিশুপাল জানিয়েছে যে, কাঞ্চন দাদাদের দেখানোর পথেই আমরা সফল হয়েছি। এই জয় গোটা জঙ্গলমহলের জয়।










