১০ টাকার ফিটকিরি থেকে আইডিয়া! এখন মাসে ২ কোটির ব্যবসা, জানুন নেহার সাফল্যের গল্প

Published:

Neha Marda

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমান সময়ে ১০ টাকার মূল্য হয়তো অনেকে গায়ে লাগান না। তবে সঠিক বুদ্ধি আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যে ১০ টাকার জিনিস দিয়েই ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে ফেলা যায় তা প্রমাণ করে দিলে অভিনেতা নেহা মর্দা (Neha Marda)। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চকমকে আলো ছেড়ে নেহা এখন একজন সফল উদ্যোক্তা বা বিজনেসম্যান (Business)। একদম সাধারণ ফিটকিরি দিয়ে তৈরি একটি বিউটি প্রোডাক্ট লঞ্চ করেই আজ প্রতিমাসে তিনি কয়েক কোটি টাকা ইনকাম করছেন।

কীভাবে এল এই ব্যবসার আইডিয়া?

আসলে নেহা মর্দার এই কোটি টাকার ব্যবসার আইডিয়া কোনও ল্যাবরেটরি থেকে আসেনি, বরং তাঁর নিজের জীবনের একটি ব্যক্তিগত সমস্যা থেকেই উদয় হয়। মা হওয়ার পর নেহার শরীরে কিছু হরমোনজনিত পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। সেই সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে, তাঁর শরীর থেকে এক ধরনের তীব্র দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। আর এই সমস্যা দূর করতেই তিনি বাজারের নামিদামি সমস্ত অর্গানিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করা শুরু করেন। কিন্তু কোনও কিছুতেই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান মেলেনি। নেহার মতে, এটি এমন একটি সমস্যা, যা নিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে লজ্জা পায়।

এরপর বাজারের কেমিক্যাল যুক্ত প্রোডাক্টে কাজ না হওয়ার কারণে নেহা অবশেষে ভরসা রাখেন ভারতীয় ঐতিহ্যের উপরেই। তিনি অতি সাধারণ এবং সস্তার ফিটকিরি ব্যবহার করা শুরু করেন। আর তাতেই বাজিমাত। ম্যাজিকের মতো কাজ করে সেই ফিটকিরি। হ্যাঁ, ফিটকিরির কার্যকারিতা দেখেই নেহার মাথায় আসে, এটা দিয়ে বড় কিছু করার। এরপর তিনি ফিটকিরি দিয়েই আন্ডারআর্মের জন্য একটি বিশেষ রোল-অন তৈরি করে ফেলেন, এবং নিজের বিউটি ব্র্যান্ড লঞ্চ করে ফেলেন।

আরও পড়ুন: কলকাতার অদূরেই রয়েছে ‘ঝুলন্ত সেতুর উপত্যকা’, গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন রোলেপ

নিজের এই অভিনব বিজনেস আইডিয়া নিয়েই নেহা হাজির হন স্টার্টআপ রিয়ালিটি শো সার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার মঞ্চে। সেখানে তাঁর ইউনিক আইডিয়া এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ দেখে মুগ্ধ হয়ে যান বিচারকরা। শো এর অন্যতম প্রধান দুই বিচারক অমন গুপ্তা এবং অনুপম মিত্তল যৌথভাবে নেহাকে ১.৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের অফার দেন। আর বিনিময়ে নেহা তাঁর কোম্পানির মাত্র ১% ইকুইটি হস্তান্তর করেছিলেন। তবে ব্যবসা শুরু হতে না হতেই নেহার ব্রান্ডের জনপ্রিয়তা একেবারে আকাশ ছুঁয়ে যায়। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই কোম্পানি ২ লক্ষের বেশি গ্রাহক তৈরি করে ফেলে। বর্তমানে এই কোম্পানির মাসিক আয় প্রায় ২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।