সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পরপর তিন দেশের সফর সেরে নিউজিল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দীর্ঘ ৪০ বছর পর প্রথমবার নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছেন ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী। আর সেই সূত্র ধরেই দূর দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হতে চলেছে (India New Zealand Trade)। এদিন অকল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর মধ্য বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ যেখানে মাত্র ২.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের
এদিন দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক, কৃষি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, ক্রীড়াসহ একাধিক ক্ষেত্রে আলোচনা হয়েছে। এমনকি ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের আগ্রাসন রুখতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে বলেই জানানো হয়েছে। তবে এই সফরের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে প্রযুক্তি আর উদ্ভাবন। নিউজিল্যান্ড তার জিডিপির আনুমানিক ১.৫% গবেষণা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যয় করে, এবং দুগ্ধশিল্প, কৃষি ও উচ্চ পর্যায়ের মতো খাতেও তারা প্রচুর পরিমাণে ব্যয় করে থাকে। সেই খাতেই এবার যৌথভাবে এগোবে ভারত ও কিউইরা।
কোন কোন ক্ষেত্রে লাভবান হবে দুই দেশ?
দুই দেশের মধ্যে এদিন একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কৃষি ও দুগ্ধ খাত। এই খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। সেক্ষেত্রে উভয় দেশ নতুন প্রযুক্তি থেকে শুরু করে গবেষণা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করবে। এমনকি একটি কিউইফল কর্মপরিকল্পনা চালু করা হচ্ছে। আর নাগাল্যান্ড এবং উত্তরাখণ্ডে দুটি উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারবে, এবং এতে দুগ্ধশিল্প আরও উন্নত হবে।
আরও পড়ুন: দু’বছর পর ফের চালু হতে পারে মৈত্রী এক্সপ্রেস, ভারতের কাছে আবেদন বাংলাদেশের
এছাড়া পর্যটনের প্রসারের জন্য দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে বলেই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেখানে ক্রীড়া ক্ষেত্রে ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষণ ক্রীড়াবিজ্ঞান বা ক্রীড়া চিকিৎসকদের নিয়ে সহযোগিতা করা হবে। এমনকি গুজরাটের লোথালে নির্মাণাধীন জাতীয় সামুদ্রিক কমপ্লেক্সের উন্নয়নে নিউজিল্যান্ড সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, চিনের আগ্রাসন রুখতে দুই দেশ একসঙ্গেই এবার হাত মেলাচ্ছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে পার্টনারশিপ আরও শক্তিশালী হবে। ঠিক যে মুহূর্তে চিন এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে, সেই সময় এই চুক্তিগুলি ড্রাগনের দেশের ক্ষেত্রে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।










