অনন্যা সরকার, কলকাতা: একসময় পরিবারের আর্থিক সংকট দুর করতে তাঁকে কাপড়ের দোকান সেলসম্যানের কাজ করতে হয়েছে। আবার কখনও ক্যাশিয়ার, টেলিফোন বুথ অপারেটর হয়েও সংসারের ভরণপোষণ করেছেন। আজ সেই বিজয় সেতুপতি (Vijay Sethupathi) আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডের (Emmy Awards) মঞ্চে ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে চলা ৫৪তম আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডে তিনি একজন উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই সম্মান পাওয়া তিনিই প্রথম ভারতীয়। অনুষ্ঠানটি ২০২৬ সালের ২৩ নভেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আসুন বিজয় সেতুপতির এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাফল্যের যাত্রাটি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনেক কঠিন পথ পেরিয়ে বিজয় সেতুপতি আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে
বি.কম (B.Com.) পড়ার সময় “মক্কাল সেলভান” বিজয় সেতুপতি একটি পোশাকের দোকানে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি কিছুদিন টেলিফোন বুথ অপারেটর হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এরপর তিনি পাড়ি দেন দুবাই। সেখানে তিন বছর অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। তবে এত সবকিছুর পরেও তাঁর মন পড়ে ছিল অভিনয়ের জগতেই। ভারতে ফিরে তিনি ‘কুথু-পি-পাট্টরাই’ (Koothu-p-Pattarai) নামক একটি নাট্যদলে যোগ দেন। সেখানে তিনি অভিনয়ের মৌলিক বিষয়গুলি শেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সিনেমার অডিশন দিতে শুরু করেন। বড় সুযোগ পাওয়ার আগে তিনি বেশ কিছু ছোট চরিত্রে জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন।
৩২ বছর বয়সে তিনি ‘থেনমেরকু পারুভাকাতরু’ (২০১০) চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ছবিটি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে, যা তাঁর কর্মজীবনে একটি বড় মাইলফলক ছিল। এরপর তিনি ‘নাদুভুলা কোনজাম পাক্কাতা কানম’, ‘সুধু কাভভুম’, ‘পিৎজা’,‘সুপার ডিলাক্স’, ’৯৬’ এবং ‘মহারাজা’-র মতো চলচ্চিত্রে বিভিন্ন আঙ্গিকের চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে শুধু শক্তিশালী অভিনয় ক্ষমতা নয়, বিনয়ী ব্যক্তিত্ব ও মাটির কাছাকাছি থাকার স্বভাব তাঁকে দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: UNESCO-র মর্যাদাপূর্ণ ঐতিহ্যের তালিকায় মহাভারত, অর্থশাস্ত্র ও রাজতরঙ্গিনী
২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডে বীর দাস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করলেও, বিজয় সেতুপতিই প্রথম ভারতীয় অভিনেতা যিনি সেখানে উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সম্মানিত শিল্পীর হাতে এমি অ্যাওয়ার্ড তুলে দেবেন। আর্থিক অনটন ও সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানোর বিজয় সেতুপতির এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, অধ্যবসায় ও প্রতিভার মেলবন্ধন থাকলে সীমাবদ্ধতাও সাফল্যের পথে সিঁড়ি হয়ে উঠতে পারে।










