অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতের তিন ঐতিহাসিক সাহিত্য পেল যুগান্তকারী স্বীকৃতি। তিনটি মৌলিক ধ্রুপদী গ্রন্থ – ‘মহাভারত’ (Mahabharata), কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ (Artha Shastra) এবং কলহণের ‘রাজতরঙ্গিনী’ (Rajatarangini) ইউনেস্কোর (UNESCO) ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল রেজিস্টার’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এই নিবন্ধনের ১১তম অধিবেশনের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তনের ওপর ভারতীয় ইতিহাস, রাষ্ট্রনীতি এবং দর্শনের গভীর প্রভাবকে তুলে ধরে।
ভারতীয় সভ্যতার তিনটি স্তম্ভ পেল ইউনেস্কোর স্বীকৃতি
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য মহাভারতে ন্যায়বিচার, কর্তব্য, শাসনব্যবস্থা এবং মানবিক সম্পর্কের মতো চিরন্তন দিকগুলির অন্বেষণ করা হয়েছে। মহাকাব্যটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে একটি মৌলিক সাংস্কৃতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। অন্যদিকে, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র হলো কূটনীতি, অর্থনীতি, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং কৌশলগত প্রশাসনের ওপর একটি অগ্রগামী গ্রন্থ। আধুনিক রাজনৈতিক চিন্তাধারার উদ্ভবের বহু শতাব্দী আগেই এটি রাষ্ট্রনীতির তাত্ত্বিক নীতিগুলোকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
দ্বাদশ শতাব্দীর কাশ্মীরি পণ্ডিত কলহণের লেখা ‘রাজতরঙ্গিনী’ কঠোর বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি, সে যুগের শিলালিপি, মুদ্রা এবং রাজকীয় নথির প্রমাণ তুলে ধরেছে। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনার এক বিরল উদাহরণ হলো এই পুঁথি। এই অমূল্য গ্রন্থগুলোর জন্য মনোনয়ন নথি প্রস্তুত ও প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস (IGNCA)। এই তিনটি নতুন সংযোজনের ফলে, এই রিজিওনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত ভারতীয় নথির সংখ্যা বেড়ে ছয়টিতে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: চেরি ব্লসম দেখতে আর যেতে হবে না জাপান, বাংলার পাশেই মিলবে অপূর্ব নিদর্শন
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে ‘সহৃদয়ালোক-লোচন’, ‘পঞ্চতন্ত্র’ এবং ‘রামচরিতমানস’ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই স্বীকৃতি ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’-এর উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দুর্লভ পাণ্ডুলিপিগুলো শনাক্ত করা, সংরক্ষণ করা এবং সেগুলোকে ডিজিটাইজ করা। তালপাতায় ও ভূর্জপত্রে সংরক্ষিত ভারতের সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ঐতিহ্যের মর্যাদা লাভ করেছে। এর ফলে, জ্ঞানের এই অমূল্য ভাণ্ডার পণ্ডিত, গবেষক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।










