বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রলয়ের (Pralay) উন্নততম সংস্করণের পরীক্ষায় সফল দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভূমি থেকে ভূমি আংশিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয় গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে। এদিন ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে। পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সজোরে আঘাত হানতে পেরেছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রলয়।
প্রলয়ের সাফল্যে অভিনন্দন জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ওড়িশা উপকূল থেকে প্রলয়ের যে উন্নত সংস্করণের উৎক্ষেপণ হয়েছে সেটি 150 থেকে 500 কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জে আঘাত করতে পারে। ভূমি থেকে ভূমি ক্ষেপণাস্ত্রটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এটি আকাশে ওড়ার সময় নিজে থেকেই অভিমুখ বদলাতে পারে। ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি 300 থেকে 700 ও 500 থেকে 1000 কেজির উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক ব্যবহার করতে সক্ষম।
প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা সূত্রের খবর, এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে এড়িয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা চালাতে সক্ষম। অর্থাৎ আকাশে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে আটকানো প্রায় অসম্ভব বলা যায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বায়ু সেনাও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। কোয়াসি-ব্যালিস্টিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে। এর ফলে সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে শনাক্ত করে মাঝপথে আটকে দেওয়া গেলেও এই ক্ষেপণাস্ত্রকে উড়ানের সময় থামানো কার্যত অসম্ভব। এদিকে বৃহস্পতিবার প্রলয়ের এমন সাফল্যে DRDO-র বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
DRDO successfully conducted the flight test of the indigenously developed Pralay Missile off the coast of Odisha today at 1110 hrs.
The test was conducted as part of user evaluation trials and successfully met all the stipulated objectives, as validated by data captured through… pic.twitter.com/u4Du6gqWEL
— Rajnath Singh (@rajnathsingh) November 5, 2026
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগেই বড় ধাক্কা খেল নিউজিল্যান্ড
উল্লেখ্য, 2020 সালে পূর্ব লাদাখে চিনা আগ্রাসনের কথা মনে আছে সকলের। মনে দাগ কেটে রেখেছে গালওয়ানের রক্তাক্ত সংঘর্ষ। সেই সময় LAC তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়া ধরেই 2022 সালে পূর্ব লাদাখে মোতায়েন করা হয় প্রলয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা হয়েছিল 2021 সালের ডিসেম্বর মাসে।










