সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভবিষ্যতের 6G ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের (6G Network) গতি বাড়াতে এবং সংকেত বা সিগন্যাল প্রবাহের বাধা দূর করতে এবার বিরাট সাফল্য অর্জন করে ফেললেন ভারতীয় গবেষকরা। বেঙ্গালুরুর জহরলাল নেহেরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সাইন্টিফিক রিসার্চের একদল বিজ্ঞানী এমন একটি সিলিকন ফটোনিক চিপ তৈরি করেছেন, যা উচ্চগতির টেরাহার্টজ সিগন্যালকে কোনও ধরনের বাফার ছাড়াই জটিল টার্গেটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতে সক্ষম। তাহলে কি 6G-র দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা?
জটিল সমস্যার সমাধান করলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা
ভবিষ্যতের 6G প্রযুক্তিতে দ্রুত ডেটা আদানপ্রদানের জন্য উচ্চ কম্পাঙ্কের টেরাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহার করা হবে। কিন্তু এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল—সার্কিটের সামান্য বাঁক, কিংবা কাঠামোগত পরিবর্তন হলেই তড়িৎ চৌম্বকীয় সিগন্যাল বা তরঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এই সমস্যা সমাধানে গবেষকরা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের একটি বিশেষ নীতি ব্যবহার করেছেন, যেটিকে বলা হচ্ছে ফোটনিক ক্লেইন টানেলিং। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তরঙ্গগুলি প্রতিফলিত বা বাধাগ্রস্ত হওয়া ছাড়াই কৃত্রিমভাবে তৈরি প্রতিবন্ধকতা পার করতে পারে। এমনকি গবেষকরা সিলিকন স্ল্যাবের ওপর গ্রাফিনের মতো মৌচাকের আকারের ত্রিভুজ আঁকার ছিদ্রের একটি নিখুঁত নকশা তৈরি করেই এই সফলতা পেয়েছেন।
গবেষণাগারে পরীক্ষা চলাকালীন বিজ্ঞানীদের তৈরি ওই চিপটি অবিশ্বাস্য গতি আর কার্যক্ষমতাও দেখিয়েছে। সাধারণ চিপে যেখানে বাঁকা বা বাধা থাকলে সিগন্যাল অনেকটা কমে যায়, সেখানে এই নতুন ধরনের চিপের একটি ব্যারিয়ারে মাত্র 1 থেকে 2% এবং পরপর দুটি ব্যারিয়ারের মধ্যে মাত্র 2 থেকে 3% সিগন্যাল লস হয়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এই চিপ ব্যবহার করে ডেটা স্থানান্তরের গতি প্রতি সেকেন্ডে 100 গিগাবাইট পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এই গতিতে একটি 5GB সাইজের হাই ডেফিনেশন মুভি 0.5 সেকেন্ডেরও কম সময় ডাউনলোড করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি চিপটির বিভিন্ন সংস্করণে গতি 48Gbps থেকে 60Gbps পর্যন্ত দেখিয়েছে।
আরও পড়ুন: আপনার এলাকার সেরা নেটওয়ার্ক কোনটি? জানতে নয়া প্ল্যাটফর্ম ‘অনুভব’ আনল TRAI
বলাবাহুল্য, টেরাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ডেটা দ্রুত পাঠানো সম্ভব হলেও এতদিন ছোট ডিভাইসের ভেতরে এই সিগন্যালকে ধরে রাখা কার্যত অসম্ভব ছিল। তবে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের 6G হার্ডওয়্যার এবং কম্প্যাক্ট সার্কিট ডিজাইনে একেবারে আমূল বদল নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু গবেষকরা জানাচ্ছেন, এটি আপাতত ল্যাবরেটরি পর্যায়ের একটি সফল পরীক্ষা। এটিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য সিস্টেমে রূপান্তর করতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগতে পারে। আর পরবর্তী ধাপে এই ব্যারিয়ারগুলিকে বৈদ্যুতিক বা যান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হবে।










