সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক (HDFC Bank) এবং তার সিইও শশিধর জগদীশনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১০০০ কোটি টাকার মানহানির মামলায় এবার বিরাট ধাক্কা খেল লীলাবতী কির্তিলাল মেহতা ট্রাস্ট। সূত্রের খবর, বোম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court) অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ে ট্রাস্টকে কোনও রকম স্বস্তি দিতে অস্বীকার করেছে। হাইকোর্টের স্পষ্ট দাবি, এই মুহূর্তে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ককে কোনও মন্তব্য করা থেকে আটকানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
কী অভিযোগ তুলেছিল ওই ট্রাস্ট?
লীলাবতী কির্তিলাল মেহতা ট্রাস্টের অভিযোগ ছিল যে, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক নাকি প্রকাশ্যে এরকম কিছু মন্তব্য করেছে যাতে ট্রাস্ট এবং ট্রাস্টটি প্রশান্ত মেহতাকে ঋণ খেলাপি হিসেবে তুলে ধরা হয়। ট্রাস্টের দাবি, ব্যাঙ্কের এই বক্তব্য তাদের সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই কারণেই ট্রাস্ট বোম্বে হাইকোর্টে ১০০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করে।
ট্রাস্ট আদালতের কাছে আবেদন জানায় যে, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ককে ভবিষ্যতে এরকম ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি ইতিমধ্যে প্রকাশিত বিবৃতি সরাতে হবে আর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
কেন আবেদন খারিজ করল আদালত?
বিচারপতি সোমশেখর সুন্দরেশন মামলার শুনানিতে বলেন, এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের বক্তব্যকে প্রাথমিকভাবে মানহানিকর বলা যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব্যাঙ্কের বক্তব্যের পিছনে যথেষ্ট নথি এবং তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি বিআরটি-র রিকভারি সার্টিফিকেট আদালত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে। এমনকি আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সার্টিফিকেট থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, মেহতা পরিবারের বিরুদ্ধে বকেয়া অর্থের দাবি আইনি ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
জানা যাচ্ছে, মেহতা পরিবার এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মধ্যে এই আর্থিক বিরোধ আনুমানিক দুই দশকেরও বেশি পুরনো। ঋণ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত এই মামলাকে ঘিরে ইতিমধ্যে একাধিক আদালত থেকে শুরু করে ট্রাইবুনাল বা তদন্তকারী সংস্থার দারস্থ হয়েছে দুই পক্ষই। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, অতীতেও বিভিন্ন রকম আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দিঘা ভ্রমণে আর নয় যানজট, খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে নতুন বাইপাসের কাজ
তবে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনও বিতর্ক প্রকাশ্যে এলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার অধিকার রয়েছে। সেই কারণে আদালত মনে করছে, যেহেতু এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক সংবাদমাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। তাই সেটিকে এই মুহূর্তে বেআইনি বলা সম্ভব নয়। এমনকি শুধু আবেদন খারিজ নয়, বরং আদালত মামলাকারীদের উপর ৫ লক্ষ টাকা খরচও ধার্য করেছে।










