‘তৃণমূলের লোক রাতারাতি বিজেপি হয়ে কেড়ে নিল জমি!’ চোখে জল পূর্ব বর্ধমানের চাষির

Published:

Jamalpur

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চাষের জমিতে (Farmland) দেখা গেল রাজনীতির ছায়া! অভিযোগ, সরকার পরিবর্তন হতে না হতেই তৃণমূলের লোকেরা বিজেপিতে যোগদান করে জামালপুরের (Jamalpur) এক দরিদ্র চাষীর জমি বাজেয়াপ্ত করল। পোস্টারে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আপাতত বন্ধ থাকবে চাষ। আর এই নির্দেশ অমান্য করলে পেতে হবে চরম শাস্তি, আতঙ্কে দিন কাটছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের কৃষকদের।

জমি নিয়ে চলছে রাজনীতি

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের স্থানীয় চাষি উত্তম মাঝির অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে থেকেই চাষের জমি বেআইনিভাবে বাজেয়াপ্ত করে নিচ্ছিল ওই দলের নেতা, কর্মীরা। সেই সময় অভিযোগকারী ভেবেছিলেন যে বিজেপি সরকার আসলে পুনরায় জমি ফিরে পাওয়া যাবে কিন্তু এবার ঘটল অন্য ঘটনা। সরকার পরিবর্তন হতেই তৃণমূলের লোকেরা রাতারাতি দল পাল্টে ফেলে এবং ওই জমি দখল করে রেখে দেয়। জমিতে নামলে আইনি ব্যবস্থার হুমকি, দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি, এমনকি পার্টি অফিসে ডেকে পাঠানোর কথাও শুনতে হচ্ছে তাঁকে। এই বিষয়ে অভিযোগকারী চাষী বিধায়ক অরুণ হালদারকে দরখাস্ত লিখলেও মেলেনি কোনো সাহায্য।

হুঁশিয়ারির অভিযোগ বিধায়কের বিরুদ্ধে

উত্তম মাঝির অভিযোগ, বিধায়ক অরুণ হালদারকে জমি সমস্যার সমস্তটা জানিয়ে চিঠি পাঠানো হলে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে উত্তম মাঝি যেতেই বিধায়কের হুমকির মুখে পড়েন তিনি। বিজেপি বিধায়ক ওই চাষিকে জমিতে চাষ করার জন্য সুদ সমেত টাকা ফেরত চান এমনকি তাঁকে নানা ভাবে হুমকিও দেন বলে অভিযোগ চাষির। অসহায় অবস্থায় ভেঙে পড়ে উত্তম মাঝি এবং তার পরিবারে। তবে এই ঘটনা শুধু উত্তম মাঝির সঙ্গে ঘটেছে তা নয়, আরেক ধান চাষি তোতন মান্নার অভিযোগ, শুধু একটি জমি নয়, গোটা গ্রামেই একই কায়দায় জমি দখল করে ফেলে রাখা হয়েছে সন্তু শীল নামে এক স্থানীয় নেতার নির্দেশে । এমনকি যে জায়গা আদৌ নদী এলাকার আওতায় পড়ে না, সেটিকেও নদী এলাকা বলে চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য বড় সুখবর! শীঘ্রই বাড়তে চলেছে ভাতা

ধান চাষিদের অভিযোগ যেখানে ৩০-৪০ বছর ধরে সকলে চাষ করছি সেখানে নেতাদের টাকার বিনিময়ে জমি ফিরিয়ে আনতে হবে? বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে ৩০ হাজার, কারও থেকে ৫০ হাজার, আবার কারও থেকে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নের মুখে পরেছে প্রশাসন। স্পষ্ট হতাশা সকলের চোখে মুখে, একটাই কথা, সরকার বদলের পর এমন দিন দেখতে হবে, তা তাঁরা কল্পনাও করেননি।