সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে ততই ভারতীয় রেল (Indian Railways) হাইস্পিড ট্রেন, উন্নত যাত্রী পরিষেবা সহ অসংখ্য কাজের জন্য রেকর্ড গড়েই চলেছে। যদিও রেল আগামী দিনে ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূলধনী ব্যয়ের মাধ্যমে গতি, নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল সংযোগের এক নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে জুড়তে চলেছে। পাইপলাইনে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেটে ঠিক করা ২.৭৮ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রজেক্ট। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। এই প্রসঙ্গে এখন সামনে এসেছে নতুন রিপোর্ট।
২.৭৮ লক্ষ কোটি টাকার কাজ করছে রেল
একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই খাতের জন্য রেকর্ড ২,৭৮,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার একটি প্রধান অংশ হলো দ্রুতগতির রেল পরিচালনা করা। সরকার প্রধান শহর ও অঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করার জন্য ৭টি হাইস্পিড রেল করিডোর ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “এই করিডোরগুলোর লক্ষ্য হলো প্রধান শহর ও অঞ্চলগুলোকে একীভূত করা, মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে সহজতর করা এবং রাজ্যগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করা।”
৭টি হাইস্পিড রেল করিডরের ঘোষণা
প্রস্তাবিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে মুম্বাই-পুনে, দিল্লি-বারাণসী এবং হায়দ্রাবাদ-বেঙ্গালুরু ইত্যাদি। পরিকল্পিত করিডোরগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার। এদিকে মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডোর এই দিকে ভারতের প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ। ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশেষ যাত্রীবাহী করিডোরটি সর্বোচ্চ ৩২০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে হাইস্পিড ট্রেন পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অর্থাৎ ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন। কাজ এগোচ্ছে বিদ্যুতের গতিতে।
আরও পড়ুনঃ শীঘ্রই ছুটবে ট্রেন! বালুরঘাট-হিলি রেল প্রকল্পে আত্রাই নদীর উপর শুরু ব্রিজের কাজ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “এই উন্নয়নগুলো হাইস্পিড রেল যুগে ভারতের প্রবেশকে চিহ্নিত করে। রেলের এই পদক্ষেপগুলি সকলের আন্তঃনগর ভ্রমণকে আরও দ্রুত এবং কার্যকর করে তুলবে।” গতির পাশাপাশি, রেলওয়ে তার ডিজিটাল পরিকাঠামোও উন্নত করছে। ট্রেন রেডিও যোগাযোগ, রিজার্ভেশন সিস্টেম এবং ভিডিও নজরদারির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলির জন্য ১,৩৯৬টি স্টেশনে একটি আইপি এমপিএলএস-ভিত্তিক সমন্বিত টেলিকম নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে।
৬৫,০০০ বিশেষ ট্রেন চালাবে রেল
প্রযুক্তিগতভাবেও নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। ৩,১০০ কিলোমিটারেরও বেশি রুটে দেশীয় কবচ স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ২৪,৪০০ কিলোমিটারে এর বাস্তবায়ন চলছে। AI নির্ভর ভিডিও নজরদারি এখন ১,৮৭৪টি স্টেশনকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং ১,৪০৫টি স্টেশনে রিয়েল-টাইম যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে থাকলে, ২০২৫-২০২৬ সালে প্রতিদিন প্রায় ২৫,০০০ ট্রেন চলবে। উৎসবের ভিড় সামলাতে রেলওয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬৫,০০০ বিশেষ ট্রেন চালাবে।










