সীমান্তে BSF-র ৬৮টি জায়গায় কাঁটাতার দেওয়া নিয়ে আপত্তি বাংলাদেশের, কী অভিযোগ?

Published:

Bangladesh–India Border

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত (Bangladesh–India Border) নিয়ে আবারও নতুন করে উত্তেজনা। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ আর বিভিন্ন পরিকাঠামো গড়ে তোলাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। তাদের অভিযোগ, সীমান্তের একাধিক জায়গায় ভারতের তরফ থেকে এমন কিছু নির্মাণকাজ করা হচ্ছে যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের চুক্তি এবং নিয়মভঙ্গকেই কাঠগড়ায় তুলছে।

ওপার বাংলার সরকারের দাবি, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের অন্তত ৬৮টি জায়গায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনারে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে খবর। এমনকি বাংলাদেশও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যতদিন না এই বিষয়গুলি সমাধান হচ্ছে ততদিন নতুন এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ শুরু করা যাবে না।

কী অভিযোগ বাংলাদেশের?

দেশটির বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ভারত একাধিক জায়গায় বেড়া দিচ্ছে। যেখানে আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি। অভিযোগের তালিকা রয়েছে—কাঁটাতারের বেড়া তৈরি, রাস্তা নির্মাণ বা মেরামত, সীমান্ত চৌকি বা নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ নির্মাণ। এমনকি অন্যান্য পরিকাঠামোগত কাজ। বাংলাদেশের দাবী, এই সমস্ত কাজ ১৯৭৫ সালের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত নির্দেশিকা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে না।

তাদের দাবি অনুযায়ী, সীমান্তের মোট ৬৮টি জায়গায় বিভিন্ন ধরনের কাজ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। যার মধ্যে ৩৯টি ক্ষেত্রে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির চেষ্টা, ৩৩টি ক্ষেত্রে রাস্তা নির্মাণ, ৩৭টি ক্ষেত্র সীমান্ত পোস্ট বা অন্যান্য কাঠামো নির্মাণ, ২০টি ক্ষেত্রে সেতু, কালভার্ট তৈরির কাজ এবং ১৮টি ক্ষেত্রে অন্যান্য পরিকাঠামোগত কার্যকলাপ। এমনকি তারা আরও জানিয়েছে, কিছু কিছু এলাকায় একই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটছে।

আরও পড়ুন: বেঙ্গল অলিম্পিকে ৫০ লক্ষ টাকার দুর্নীতি! নাম জড়াল বিশ্বাস ব্রাদার্সের

বিএসএফ এবং বিজিবি বৈঠকের মাঝেই নতুন বার্তা

এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যে দিল্লিতে বিএসএফ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ডিজি পর্যায়ের বৈঠক চলছে। চারদিনের এই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অবকাঠামো উন্নয়ন, পাচার, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কূটনৈতিক মহল সূত্রে খবর, আগের বৈঠকের মতো এবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করা সম্ভব হবে না। তার পরিবর্তে একটি সংক্ষিপ্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।

google button
TRENDING সবচেয়ে বেশি পড়া ← বাদিকে স্ক্রল করুন