বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জ্বালানি নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট (Biogas)! ভারতে তার প্রভাব পড়লেও এর কুফল যাতে আমজনতার পকেটে না পড়ে সেজন্য বদ্ধপরিকর নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিশ্বের একাধিক দেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বাড়লেও দেশবাসীর স্বার্থে এই দুই জ্বালানির দাম বাড়ায়নি কেন্দ্র। বরং কমানো হয়েছে অবগারি শুল্ক। তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে পরবর্তীতে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে এই আশঙ্কায় এবার গোবর গ্যাসের উপর ভরসা রাখছেন অনেকেই। যার উজ্জ্বল উদাহরণ উত্তরপ্রদেশের গৌরী দেবী।
ইরান যুদ্ধের মাঝেই ভারতকে বাঁচাচ্ছে গো মাতা
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একেবারে প্রথম থেকেই জানানো হয়েছে, দেশে গ্যাসের ঘাটতি আপাতত নেই। যদিও কিছু কিছু এলাকায় LPG-র জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে আমজনতাকে! এমতাবস্থায়, গোবর গ্যাস বা বায়োগ্যাস নির্ভরযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের নেকপুর গ্রামের 25 বছর বয়সী গৌরী দেবী সম্প্রতি নিজের পরিবারের দৈনন্দিন খাবার রান্নার জন্য বায়োগ্যাস ব্যবহার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গৌরী দেবী নিজের বাড়িতেই বায়ো গ্যাসের একটি প্লান্ট তৈরি করেছেন। যেখানে গো মাতার গোবর এবং জল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে মিথেন গ্যাস। আর সেই গ্যাস পাইপের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে উনুনে। এর ফলে LPG এর জন্য অপেক্ষা না করে সহজেই হচ্ছে রান্না। গৌরী দেবীর তরফে জানানো হয়েছে, গো মাতার গোবর এবং জল দিয়ে মিশ্রিত বায়ো গ্যাসের মাধ্যমে তিনি প্রতিদিনের রুটি, সবজি থেকে শুরু করে ভাত সহ অন্যান্য সমস্ত রকমের তরিতরকারি রান্না করতে পারছেন।
আসলে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধের কারণে যেভাবে জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তাতে ভবিষ্যতে দেশবাসীর LPG নির্ভরতা কমাতে পারে বায়োগ্যাস। বলাই বাহুল্য, দেশে প্রত্যেক বছর 30 মিলিয়ন টনেরও বেশি LPG ব্যবহৃত হয়। যার অর্ধেকেরও বেশি আসে আমদানি থেকে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যা তাতে এই মুহূর্তে বেশ খানিকটা প্রভাবিত হয়েছে ভারতের আমদানি। মূলত সে কারণে, রান্নার গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমাতে গরু বা গো মাতার গোবর থেকে তৈরি বায়োগ্যাস দিয়েই সহজে রান্নার কাজ মিটিয়ে নিচ্ছেন গৌরী দেবীর মতো বাড়ির মহিলারা।
অবশ্যই পড়ুন: ‘১৭ কোটি বাংলাদেশি পাশে আছে, পশ্চিমবঙ্গকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করুন’ মমতাকে আরজি
সবচেয়ে বড় কথা, বায়ো গ্যাস প্লান্ট থাকলে তার বড় সুবিধা এখান থেকেই তৈরি হয় জৈব সার। যা কৃষকরা চাষে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোবরের থেকে গাছের ফলনের জন্য কার্যকর কিছু হতে পারে না। এটি গাছে পুষ্টি যোগায়। সব মিলিয়ে বলাই যায়, LPG এর উপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার থেকে শুরু করে কৃষি কাজে উৎপাদন বৃদ্ধি সব ক্ষেত্রেই গোবরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মূলত সে কারণেই সরকার বিগত দিনগুলিতে বায়ো গ্যাসের প্রসারের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাছাড়াও বায়ো গ্যাসের প্ল্যান তৈরি ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকিও প্রদান করে। না বললেই নয়, ভারত 2070 সালের মধ্যে কার্বন শূন্য হওয়ার যে লক্ষ্য নিয়েছে তাতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে, এই বায়োগ্যাস। সেক্ষেত্রে বলাই যায়, ইরান যুদ্ধের মাঝেই ভারতকে বাঁচাচ্ছে গো মাতা।










