বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যাত্রীদের স্বাস্থ্যের প্রশ্নে এবার কাঠগড়ায় ভারতীয় রেলের (Indian Railways) একের পর এক স্টেশন (Train Station)! বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে ভারতে। আর সে দেশেরই একাধিক স্টেশনে যাত্রীদের পানীয় জলের গুণমান নিয়ে এবার উঠল প্রশ্ন। সম্প্রতি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা CAG এর রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, ভারতীয় রেলের নানান স্টেশনের কুলারের পানীয় জলে পাওয়া যাচ্ছে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া। যা একবার পেটে গেলে ভয়ঙ্কর রোগে পড়তে পারেন আপনি! হাসপাতালে ভর্তিরও প্রয়োজন হতে পারে।
স্টেশনে পানীয় জল খাওয়ার আগে সতর্ক থাকুন
CAG এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় রেলের অধীনস্থ 6টি জোনের অন্তত 59টি স্টেশনের ঠান্ডা পানীয় জলে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া রয়েছে কিনা তার পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। আর সেই পরীক্ষাতেই পেছনের দিক থেকে পাস করেছে বেশ কিছু স্টেশন। সেই সব স্টেশনের কুলারের ঠান্ডা পানীয় জলে হদিশ মিলেছে এই মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার। সেই তালিকায় রয়েছে, সাউদার্ন রেলের কোয়েম্বাটোর, পালাক্কাড জংশন থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল রেলের হায়দরাবাদ স্টেশন, ভিওয়ান্ডি রোড, ছত্রপতি শিবাজী স্টেশন, কল্যাণ, লোনাভালা স্টেশনও।
CAG এর ওই রিপোর্ট এও বলছে, উল্লেখিত স্টেশনগুলি ছাড়াও ইস্টার্ন রেলের মধুপুর স্টেশনের জলেও মিলেছে এই ভয়ানক ব্যাকটেরিয়া। আর তারপর থেকেই স্টেশন গুলিতে যাত্রীদের জন্য রাখা পানীয় জলের গুণমান নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের বেশির ভাগেরই দাবি, স্টেশনে পানীয় জল খাওয়ার আগে প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন থাকা উচিত। একই সাথে স্টেশনের জল বাদ দিয়ে নিজেদের সাথে জল রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে হাওড়া থেকে শিয়ালদহ স্টেশন
CAG এর রিপোর্টে শুধুমাত্র যে পানীয় জলে ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়েছে তাই নয় বরং একাধিক স্টেশনের শৌচাগারের জল থেকে শুরু করে শৌচাগার, বসার জায়গা, জলের কল সহ ন্যূনতম পরিষেবার ক্ষেত্রেও ঘাটতি ধরা পড়েছে। গত 12 আগস্ট CAG এর তরফে প্রকাশিত ভারতীয় রেলওয়ের নন-সাবার্বান স্টেশনগুলির যাত্রী পরিষেবা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, 512টি স্টেশনের মধ্যে 458টি স্টেশনেই ঘাটতি রয়েছে ভারতীয় রেলের। অর্থাৎ ভারতীয় রেলের 89 শতাংশ স্টেশনেই ঘাটতি ধরা পড়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: আজ থেকেই শুরু, কীভাবে ডাউনলোড করবেন আয়ুষ্মান ভারত কার্ড? দেখুন স্টেপ বাই স্টেপ
অবাক করা বিষয়, CAG যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে দেশের গুটিকয়েক প্রথম শ্রেণীর স্টেশনগুলির তালিকায় ঘাটতি ধরা পড়েছে হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনেও। এছাড়াও রয়েছে দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো স্টেশনও। রিপোর্টে বলা হয়েছে, উল্লেখিত স্টেশনগুলির বসার জায়গার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জলের কল, শৌচাগার, ডাস্টবিন, ইলেকট্রনিক ট্রেন ইন্ডিকেটরের মতো পরিষেবাগুলিতে ঘাটতি মিলেছে। আর তারপরেই স্টেশনগুলিতে পানীয় জলের গুণমান থেকে শুরু করে যাবতীয় পরিষেবা ঠিকমতো রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য নিয়মিত পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয় রেলকে।










