অনন্যা সরকার, ধানবাদ: ২৪ বছর আগে ধানবাদে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর প্রধান শাখায় ব্যাংকিং জগতকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো এক কেলেঙ্কারি (Dhanbad SBI Bank Fraud) ঘটে। ওই ঘটনাকে ব্যাঙ্কের ইতিহাসে অন্যতম অভিনব এবং উল্লেখযোগ্য ব্যাংক কেলেঙ্কারি (Bank Fraud) বলে বিবেচনা করা হয়। ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে স্টেট ব্যাংকের ধানবাদ শাখার কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং কমিশন এজেন্টরা একসাথে হাত মিলিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। ২০০৫ সালেই এই কেসে তদন্ত করতে নামে সিবিআই (CBI)। অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হলেও বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিল মূল অভিযুক্ত ব্রজভূষণ ও কর্তার সিং। নাম ভাঁড়িয়ে আত্মগোপন করা দুই অভিযুক্ত ওকে এবার মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড় থেকে গ্রেফতার করলো সিবিআই।
বছরের পর বছর ধরে কীভাবে চালানো হয় এই আর্থিক কেলেঙ্কারি?
পোড়া ও ছেঁড়া নোট সংগ্রহ করে সেগুলির নিষ্পত্তির জন্য ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কে (আরবিআই) পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। আর এই পদ্ধতির সুযোগ নিয়েই ধানবাদ কারেন্সি চেস্টের তৎকালীন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ব্রিজভূষণ প্রসাদ এবং কর্তার সিংয়ের সাথে মিলে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রচনা করেছিল। ২০০২ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৫ সালের জুনের মধ্যে, প্রায় ১৭ কোটি টাকা মূল্যের পোড়া ও ছেঁড়া নোটের বান্ডিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হয়। আরবিআই যখন এই বান্ডিলগুলো পরীক্ষা করে তখন উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বান্ডিলগুলোর উপরে ও নীচে আসল নোট থাকলেও, সেগুলোর মাঝখানে নোটের আকারে কাটা খবরের কাগজের টুকরো এবং বাতিল কাগজ গুঁজে রাখা হয়েছিল। তদন্ত করে বাতিল কাগজের মধ্যে মোট ১২,৫৪,৯৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
এই আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর, ২০০৫ সালের ৩১শে আগস্ট সিবিআই-এর তরফে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে দুজন ব্যাংক আধিকারিক, পাঁচ কর্মচারী এবং মূল অভিযুক্ত ব্রজভূষণ প্রসাদ ও কর্তার সিংয়ের নাম উঠে আসে। মামলা দায়ের হওয়ার পরপরই ব্যাংক কর্মচারীদের বরখাস্ত করে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু মূল অভিযুক্ত ব্রজভূষণ ও কর্তার সিং দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সিবিআই তাদের দুজনের মাথার দাম ঘোষণা করে এবং ইন্টারপোলের (Interpol) সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে ‘রেড কর্নার নোটিশ’ (Red Corner Notice) জারি করে।
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, ওই দুই অভিযুক্ত প্রথমে নেপালে আত্মগোপন করে ছিল। তারপর সেখান থেকে দেশে ফিরে তারা পরিচয় বদল করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করতে শুরু করে। তবে এই কয়েক বছরে দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সিবিআই গত কয়েক মাস ধরে দুই অভিযুক্তের কার্যকলাপের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল বলে জানা গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর পাওয়ার পর অবশেষে ২১ বছর পর মহারাষ্ট্র থেকে ব্রজভূষণ প্রসাদ ও ছত্তিশগড় থেকে কর্তার সিংকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই।










