অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: অনেকসময় ট্রেনে (Indian Railways) সিট রিসার্ভ করা সত্ত্বেও অন্য যাত্রীরা তা দখল করে রাখায় ভোগান্তির মুখে পড়েন বহু যাত্রী। এক বয়স্ক দম্পতি ও তাঁদের ছেলের সঙ্গেও এমনই একটি ঘটনা ঘটে। কনফার্ম টিকিট থাকা সত্ত্বেও, ভিড়ে ঠাসা ট্রেন এবং টিকিট ছাড়া যাত্রা করা ব্যক্তিদের আধিক্যের কারণে তাঁরা তাঁদের রিসার্ভ সিটটির পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে পারেননি। পরিবারটি এই বিষয়ে কনজিউমার কমিশনে অভিযোগ জানায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এখন কমিশন ওই পরিবারকে রেল কর্তৃপক্ষকে মোট ৭৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
রেলকে টাকা পরিশোধের নির্দেশ কনজিউমার কমিশনের
এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর। পার্থসারথি, তাঁর স্ত্রী নির্মলা কেটি এবং তাঁদের ছেলে আদিত্য টিপি ১৬৩৮২ নম্বর কন্যাকুমারী-পুনে এক্সপ্রেস ট্রেনে তিরুপতি যাওয়ার জন্য কনফার্ম টিকিট বুক করেছিলেন। ওট্টাপালম থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন ওই বয়স্ক দম্পতিটি। তাঁরা আইআরসিটিসি (IRCTC) ওয়েবসাইট থেকে ৬৬৮ টাকায় স্লিপার ক্লাসের টিকিট বুক করেন। তাঁদের এস২ (S2) কোচের নিচের বার্থ দেওয়া হয়েছিল। আর আদিত্যের জন্য ৩১৫ টাকার টিকিটে এস৬ (S6) কোচের ওপরের বার্থটি নিশ্চিত করা হয়।
আরও পড়ুন: বাড়তে পারে রেলের ভাড়া, জমা পড়ল সুপারিশ, কতটা বৃদ্ধি পাবে?
ওই পরিবারটি নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, ট্রেনে ওঠার পর তারা দেখেন রিজার্ভেশন ছাড়া, ওয়েটিং লিস্টে থাকা এবং টিকিটবিহীন বহু যাত্রী তাদের রিসার্ভ কামরাটি দখল করে রেখেছে। এমনকি, কিছু জন তাদের রিসার্ভ আসনও দখল করে রেখেছিল। পরিবারটি তাদের আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও তাঁরা রাজি হয়নি। ট্রেন যত এগোতে থাকে তাদের কামারাও ততই ভিড়ে পূর্ণ হতে থাকে। বহু যাত্রী ট্রেনের মেঝেতে, বার্থের নীচে ও সিটের চারপাশে শুয়ে ছিলেন। ওই বৃদ্ধ দম্পতি অনেক কষ্টে তাদের লোয়ার বার্থটি খুঁজে পান। অন্যদিকে, বাকি যাত্রীরা তাঁদের ছেলের রিসার্ভ আপার বার্থটিও দখল করে রেখেছিল।
এরকম অবস্থায় আদিত্য রাত প্রায় ৮:১২ মিনিট নাগাদ রেলমাদাদ অ্যাপে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান যে সাধারণ টিকিটধারী যাত্রীরাও রিসার্ভ করা এস২ কোচে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেসময় টিকিট পরীক্ষকও আসেননি। রেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, পরিবারটি জানায় তারা কোনো সুরাহা পাননি। এরপর আদিত্য দ্বিতীয় অভিযোগটি দায়ের করেন রাত প্রায় ১১:২৪ মিনিটে। এতে তিনি এস৬ কোচে রিজার্ভেশন না করা যাত্রীদের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যার কথা বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রেল কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে, টিটিই (TTE) এবং আরপিএফ (RPF) দুই কোচেই গিয়ে অননুমোদিত যাত্রীদের সরিয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সময়ানুবর্তিতার দৌড়ে নাজেহাল দশা হাওড়ার, বাংলার মুখ রক্ষা করল আলিপুরদুয়ার ও শিয়ালদহ
রেলের সাহায্য না পেয়ে ওই পরিবারটি ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর কনজিউমার কমিশনের দ্বারস্থ হয়। চলতি বছর ৩ ফেব্রুয়ারি উপভোক্তা কমিশনের সিদ্ধান্ত সামনে আসে, যেখানে রেল কর্তৃপক্ষের সমস্ত যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। রেল কর্তৃপক্ষ যুক্তি দেখিয়েছিল যে, পরিবারটি তাদের যাত্রা সম্পূর্ণ করার প্রায় এক বছর পরে কনজিউমার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে। কিন্তু ওই পরিবারের দেওয়া ট্রেনের ভিতরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ছবিগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে কমিশন এবং রেলের তরফে ওই পরিবারকে ৭৫,০০০ টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










