সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচদের আন্দোলনের (Delhi Protest) জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে সেই আন্দোলন চলাকালীন সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রঙ্কা এবং রত্না সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক মহিলার আপত্তিকর একটি এআই ছবি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওই মহিলা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি। আজই ওই মামলার শুনানি হবে বলে খবর।
মহিলার আপত্তিকর ছবি প্রদর্শন করায় অভিজিৎ দীপকেদের বিরুদ্ধে এফআইআর
দিল্লিতে দীর্ঘ ২২ দিন ধরে চলে ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন। অবশেষে তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং লোকসভায় পেশ করা হয় প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল। তবে শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে ওই মহিলা জানিয়েছেন, আন্দোলন চলাকালীন সিজেপির নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার একটি ডিপফেক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট এবং প্রচার করেন, যা তার প্রাণনাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি আজই তালিকাভুক্ত করে শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন।
এমনকি আইনজীবী উমেশ শর্মা জানান, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ওই মহিলার অভিযোগ, অভিজিৎ দীপকেসহ সিজেপি নেতারা ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি জঘন্য ছবি জনসমক্ষে প্রচার করেছে। সিজেপির নেতারা অনুমতি ছাড়াই তাঁর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে এআই ফেস সোয়াপিং টুল ব্যবহার করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পাশে তাঁকে বসিয়ে একটি অশ্লীল এবং আপত্তিকর ছবি তৈরি করে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদর্শন করেছেন। এমনকি ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: “লাদাখে গণহত্যার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর!” অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি সোনম ওয়াংচুকের
মহিলার অভিযোগ, এফআইআর দায়ের হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় সাইবার কর্তৃপক্ষ কোনও রকম নির্দেশ দেয়নি, যার ফলে ওই কনটেন্টগুলি ইন্টারনেটে এখন ভাইরাল। এমনকি বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটেও সেগুলি আপলোড করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অনলাইনে থাকা ওই ছবিগুলি তাঁর জন্য ধর্ষণের হুমকি এবং মানসিক আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সূত্রে আবেদনকারী ওই মহিলা পুলিশকে অনুরোধ করেছেন যে, অবিলম্বে যেন সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট থেকে এই আপত্তিকর ছবি এবং ডিপফেক কনটেন্ট খুঁজে বের করে সেগুলিকে মুছে ফেলা হয়।










