এবার রাজধানীতে আন্দোলনে নামল স্বয়ং দিল্লি পুলিশই, চরম কটাক্ষ নেহা বোরার

Published:

Neha Bora

সৌভিক মুখার্জী কলকাতা: রাজধানীতে এবার খোদ পুলিশ বাহিনীর অন্দরেই তীব্র অসন্তোষ। সহকর্মীদের হঠাৎ বদলির নির্দেশের প্রতিবাদ জানাতে সোমবার সকাল থেকে রাস্তায় নামলেন একদল উর্দিধারী পুলিশ কর্মী। দিল্লি পুলিশ সদর দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের বিভাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও বিক্ষোভকারী সহকর্মীদের আটকাতে ময়দানে নামতে হয় দিল্লি পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকদেরও। আর এই ঘটনায় রাজধানীতে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। তবে এবার এ নিয়ে কটাক্ষ করলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা (Neha Bora)।

দিল্লিতে পুলিশের আন্দোলন

ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির শাহদারা থানায়। সম্প্রতি সেখানে আইনজীবী ও পুলিশ কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিরোধ। সেই ঘটনার তদন্ত ও রেশ কাটতে না কাটতেই তড়িঘড়ি বদলি করে দেওয়া হয় এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠ এবং সংশ্লিষ্ট থানার এসএইচও অরুণ কুমারকে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপে দিল্লি পুলিশের মাঠ পর্যায়ে তৈরি হয় ক্ষোভ এবং অসন্তোষ। সহকর্মীদের অন্যায়ভাবে বদলি করা হয়েছে—এই অভিযোগেই শনিবার একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন বদলি হওয়া এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠ। সেই ভিডিওতে তিনি পুলিশ কর্মীদের কাছে আহ্বান জানান, যেন সোমবার সকাল আটটায় সবাই পুলিশ সদর দফতরে জড়ো হয়ে পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

পুলিশ সদর দফতরে বিক্ষোভের আঁচ পেয়ে আগেই তৎপর হয়েছিল প্রশাসন। দিল্লি পুলিশের সমস্ত পুলিশ উপকমিশনার এবং বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন তাঁদের অধীনস্থ কোনও পুলিশ কর্মী বা আধিকারিক সদর দফতরের দিকে না যেতে পারেন। তবে সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেই সোমবার সকাল থেকে একাধিক পুলিশ কর্মী ও আধিকারিক সদর দফতরের বাইরে জড়ো হন। এমনকি শুধু অন্যান্য জেলার পুলিশ নয়, স্বয়ং নয়াদিল্লিতে মোতায়েন থাকা বেশ কিছু পুলিশ সদস্যকেই প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: বাজেটের মধ্যেই ৯ দিনের জাপান ট্যুর করাচ্ছে IRCTC, জানুন খরচ

তবে পুলিশের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক। বিশেষ করে দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভানেত্রী নেহা বোরা এই গোটা ঘটনা নিয়ে দিল্লি পুলিশকে তীব্র কটাক্ষ করেন। এর আগে একাধিকবার পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, “দিল্লি পুলিশ সদর দফতর নতুন দিল্লির যে এলাকায় অবস্থিত, সেখানে বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে, যা জমায়েত নিষিদ্ধ করে। তাহলে এবার কি দিল্লি পুলিশ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবে? আপনাদের ভেঙে পড়া ব্যবস্থার চরম নমুনা এখন সর্বত্র ফুটে উঠেছে।”

google button