সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ কোভিডের পর এবার দ্রুত ছড়াচ্ছে H1N1 ভাইরাস। এই ভাইরাসের জেরে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও হু হু করে বাড়ছে। পরিস্থিতি একপ্রকার ক্রমেই খারাপ হচ্ছে জাতীয় রাজধানীতে । সেখানে এইচ১এন১ (সোয়াইন ফ্লু)-এর প্রকোপ বাড়তে থাকায়, সরকার একটি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা জারি করেছে।
প্রকোপ বাড়ছে H1N1 ভাইরাসের
সরকারের তরফে জনগণকে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে, ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এই বছর দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ-এর ২,৩০০-এর বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত H1N1-এর ১,৭৭৭-এর বেশি রোগী রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে শুধুমাত্র বৃহস্পতিবারেই ১১৪ জন H1N1 রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর জনগণকে কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখতে, সাবান ও জল দিয়ে নিয়মিত হাত ধোওয়ার বার্তা দিয়েছে।
জনগণকে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ
সরকার ভিড়যুক্ত স্থানে মাস্ক পরতে এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও চোখ ও নাক স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে, জনসমক্ষে থুতু না ফেলতে এবং প্রচুর পরিমাণে তরল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীর ব্যথা বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। স্বাস্থ্য বিভাগ এর আগে জানিয়েছিল যে, ক্রমবর্ধমান ফ্লু রোগী মোকাবেলায় দিল্লি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, ডাক্তার, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, তিনতলা বাড়ি!’ অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে বুক চাপড়ানো মহিলার পরিচয় ফাঁস
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে ৩৫টি হাসপাতালকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে এবং দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS) ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলে দুটি রেফারেল ল্যাবরেটরি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এছাড়াও রোগীর শ্রেণিবিভাগ, চিকিৎসা পদ্ধতি, ভেন্টিলেটর ব্যবস্থাপনা, মাস্কের ব্যবহার এবং বাড়িতে পরিচর্যার বিষয়ে প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১৫৯ জন ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫৫ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ আক্রান্ত, যার মধ্যে ১১৪ জন এইচ১এন১, দুজন এইচ১, একজন এইচ৩ এবং ৩৮ জন অন্যান্য ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ রোগী। এছাড়া চারজন ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি আক্রান্তের খবরও পাওয়া গেছে। শুক্রবার পর্যন্ত এই বছর দিল্লিতে মোট ২,৬০২ জন ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২,৩৯২ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ এবং ২১০ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-তে আক্রান্ত।










