অনন্যা সরকার, আজমের: রবিবার (২১ জুন) ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী নিট ইউজি রি-এক্সামে (NEET UG Re-Exam) অংশ নিয়েছিল। এদিন রাজস্থানের আজমীরের এক পরীক্ষা কেন্দ্রে বোরখা পরার কারণে এক ছাত্রীকে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ওই পরীক্ষার্থী জানান যে, তিনি বোরখা পরে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন বলা তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সংবাদ সূত্র অনুযায়ী, গত ৩রা মে অনুষ্ঠিত প্রথম পরীক্ষায় তিনি একই পোশাক পরেছিলেন বলে জানান ওই পরীক্ষার্থী, কিন্তু তখন তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি।
বোরকা পরায় পরীক্ষা কেন্দ্রে বাধা পরীক্ষার্থীকে
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-এর নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের ধর্মীয় পোশাক বা প্রতীক পরিধান করে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসার অনুমতি রয়েছে, তবে এক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে তল্লাশির সুবিধার্থে তাদের অনেক আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। কুলসুম বানো নামের ওই ছাত্রী সাংবাদিকদের জানান যে, পরীক্ষা কেন্দ্রে তিনি বোরখা ও ওড়না পরা অবস্থায় এসেছিলেন। তার অভিযোগ, প্রথমে গার্ডরা বলেছিল প্রবেশের জন্য ওড়না খুলতে হবে, পরে তারা বোরখা খোলার জন্যও তাকে জোর দিতে থাকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এনটিএ যদি ধর্মীয় পোশাক পরার অনুমতি দিয়ে থাকে, তবে পরীক্ষা কেন্দ্রে তাকে কেন আটকানো হচ্ছে? তার সাথে ওই পরীক্ষার্থী সাফ জানান, যদি তাকে পরীক্ষা দিতে হয় এবং রক্ষীরা এই পোশাকে তাকে ঢুকতে না দেয়, তবে তিনি আর পরীক্ষা দেবেন না। পরিক্ষার্থী এও জানান যে, তার কাছে NEET পরীক্ষার থেকে বোরখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ!
#WATCH | Ajmer, Rajasthan: A Burqa-wearing candidate was allegedly denied entry at a medical entrance exam centre ahead of the NEET examination today.
A candidate, named Kulsum Bano, says, “I have come from Beawar to take the NEET exam. When I took the exam on May 3rd, I was in… pic.twitter.com/3TVNnYk52n
— ANI (@ANI) June 21, 2026
ওই ছাত্রীর বাবা সাংবাদিকদের জানান যে, তার মেয়ে গত ৩মে-র নিট পরীক্ষায় বোরকা পরেই অংশ নিয়েছিল। ১৮ নম্বর নিয়মে বলা আছে যে, ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, পরীক্ষা কেন্দ্রের রক্ষীদের তারা অনুরোধ করেন কোনো নারী কর্মীকে দিয়ে ভালোভাবে ছাত্রীর তল্লাশি করানো হোক এবং পর্দার আড়ালে বা কোনো গোপন স্থানে বোরখা খুলতে দেওয়া হোক, কিন্তু তারা তাতে রাজি হয়নি।
ছাত্রী ও তার বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানিয়েছে যে, ওই ছাত্রীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে এবং পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আজমীর উত্তর অঞ্চলের সার্কেল অফিসার (CO) শিবম যোশী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম নিয়ে অস্পষ্টতা থাকার কারণে এই বিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল, তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি স্পষ্ট করার পর সমস্যার সমাধান করা গেছে। তিনি এও জানিয়েছেন যে, এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে আর কোনও সমস্যা হয়নি এবং সমস্ত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণভাবে প্রবেশ করতে পেরেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩মে সারা ভারত জুড়ে ‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে পরীক্ষাটি বাতিল হয়ে যায়। রবিবার এনটিএ তাই পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করেছিল। এই রি-এক্সামের আগে পরীক্ষার্থীদের জন্য সুশৃংখল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল।










