বায়ুসেনার ‘জাগুয়ার’ স্কোয়াড্রনে নিযুক্ত প্রথম স্থায়ী মহিলা পাইলট, ইতিহাস গড়লেন তনুষ্কা!

Published:

Indian Air Force Flying Officer Tanushka Singh

অনন্যা সরকার, কলকাতা: কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অদম্য সাহসের জোরে মানুষ কী না পারে! যেমনটা করে দেখিয়েছেন ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স-এর ফ্লাইং অফিসার তনুষ্কা সিং (Flying Officer Tanushka Singh)। তিনি বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) জাগুয়ার ফাইটার জেট স্কোয়াড্রনের প্রথম স্থায়ী মহিলা পাইলট (Female Pilot)। উল্লেখযোগ্যভাবে, শক্তিশালী জাগুয়ার ফাইটার জেট সবসময় ডিপ স্ট্রাইক অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর আগে কোনও মহিলা বিমান চালককে এত গুরুত্বপূর্ণ  ফাইটার জেটের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

সামরিক পরিবারে বেড়ে ওঠা তনুষ্কা গড়লেন রেকর্ড

তনুষ্কার বড় হয়ে ওঠা একটি সামরিক পরিবারেই। তাঁর বাবা, অজয় প্রতাপ সিং, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছিলেন। এছাড়া, তাঁর দাদু ডি.বি. সিং ছিলেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদে। দুজনেই দীর্ঘদিন সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তনুষ্কা কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে বড় হয়েছেন এবং ডিপিএস এমআরপিএল স্কুল ও শারদা পিইউ কলেজে পড়াশোনা করেছেন। এরপর তিনি ২০২২ সালে মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি.টেক (B.Tech) ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রথমদিকে তনুষ্কা ভেবেছিলেন দাদু ও বাবার মতোই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারেন যে মহিলাদের ফাইটার পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তখন তিনি এয়ার ফোর্সে যোগ দিতে আগ্রহী হন। তনুষ্কা তেলেঙ্গানার দুন্দিগালের এয়ার ফোর্স একাডেমিতে ১৮ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে হক এমকে ১৩২ (Hawk MK 132) বিমানের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন তিনি। আর, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তনুষ্কা প্রথম মহিলা পাইলট হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনার জাগুয়ার স্কোয়াড্রনে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হন। 

আরও পড়ুন: সন্ধের মধ্যেই ল্যান্ডফল করবে গভীর নিম্নচাপ, কোথায়? সময় জানাল আবহাওয়া দফতর

তনুষ্কার দাদু ডি.বি. সিং জানান, জাগুয়ার ফাইটার জেট স্কোয়াড্রনের প্রথম স্থায়ী মহিলা পাইলট হয়ে তনুষ্কা গোটা পরিবারকে গর্বিত করেছেন। দাদুর কথায়, তাঁর মাধ্যমে দেশের সেবা করার ক্ষেত্রে তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত মহিলাদের জন্য তনুষ্কার এই সাফল্য একটি বড় পদক্ষেপ। তাঁর  এই যাত্রা প্রমাণ করে দেয় যে, মহিলারা কোনও কাজেই পিছিয়ে নেই, তাঁরাও ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী জেট বিমান চালাতে সক্ষম।