সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গরমকাল পড়তেই তরমুজের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যেন একটু বেড়ে যায়। তবে মুম্বাইয়ের (Mumbai) জে জে মার্গ এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা এখন সবার আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে তরমুজ খাওয়ার পরেই একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক (Watermelon Death Case)। ফল থেকে বিষক্রিয়া নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এমনকি পাইকারি বাজারে তরমুজের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়েছে।
কী ঘটেছিল সেদিন রাতে?
বেশ কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, দক্ষিণ মুম্বাইয়ের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ ডোকাডিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসরিন এবং দুই মেয়ে আয়েশা এবং জয়নেব গত শনিবার রাতে আত্মীয়দের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে বিরিয়ানি হওয়ার পর তাঁরা তরমুজ খেয়েছিলেন। অভিযোগ, এর পরেই গভীর রাতে পরিবারের সকলের প্রবল বমি এবং ডায়রিয়া শুরু হয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁদের মধ্যে কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তবে পুলিশ ও ফরেনসিক দল ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার ওই পরিবারের বাড়ি থেকে খাবারের অবশিষ্টাংশ, জল আর ফলের নমুনাও সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরীতে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, এটি ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে কোনও বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুলিশ এটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা তাও খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির ব্যাঙ্কের নথি এবং আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা হচ্ছে কোনও রকম মানসিক চাপ ছিল কিনা তা জানতে। সবথেকে বড় ব্যাপার—ওই রাতের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য পাঁচজন অতিথিও বিরিয়ানি খেয়েছিলেন। তবে তাঁদের কোনও শারীরিক সমস্যা হয়নি। তাই সন্দেহ দানা বাঁধছে তরমুজ বা অন্য কোনও খাবারকে ঘিরেই।
এদিকে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাজার থেকে তরমুজের চাহিদা কার্যত উধাও হয়ে যাচ্ছে। নভি মুম্বাইয়ের এপিএমসি মার্কেটে যেখানে তরমুজ প্রতি কেজি ১৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে এখন দাম নেমে এসেছে ৫ থেকে ৭ টাকায়। এদিকে খুচরা বাজারেও মানুষ তরমুজ কিনতে ভয় পাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, স্টকে থাকা প্রচুর ফল পচে নষ্ট হচ্ছে। যার ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি মুখে পড়তে হচ্ছে আমজনতার।
আরও পড়ুন: খেল দেখাবে আবহাওয়া! কিছুক্ষণেই কলকাতা সহ ৭ জেলায় ধেয়ে আসছে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি
তবে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিং এড়াতে চিকিৎসকরা বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, বাজার থেকে কেটে রাখা বা দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় রাখা ফল মোটেও কিনবেন না। দ্বিতীয়ত, ফল খাওয়ার আগে তা ভালো করে ধুয়ে নিন। তৃতীয়ত, তরমুজ কাটার পর বেশিক্ষণ বাইরে না রেখেই দ্রুত খেয়ে নেওয়া সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ। আর ফলের গায়ে কোনও অস্বাভাবিক দাগ বা গন্ধ থাকলে সেই ফল এড়িয়ে চলায় শ্রেয়।










