সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অভাব অনটনের মধ্য দিয়েও যে আকাশ ছোঁয়া যায়, তা আবারও প্রমাণ করলেন মালবাজারের রূপায়ণ। হ্যাঁ, আকাশছোঁয়ার বিলাসিতাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এই শহরের কৃতি ছাত্র রূপায়ণ চন্দ। কোনও নামিদামি কোচিং সেন্টার নয়, বরং এক কামরার ঘরে শুধুমাত্র অনলাইনে পড়াশোনা করেই জেইই মেইনসে (JEE Main) ৯৯.০০১% নম্বর পেয়ে আইআইটি-র দোরগোড়ায় পৌঁছেছেন তিনি (Success Story)।
জানুন তাঁর জীবন কাহিনী
আসলে রূপায়ণের লড়াইয়ের শুরুটা মাত্র দেড় বছর বয়সে, যখন তিনি তার বাবাকে হারিয়ে ফেলেন। মা শুক্লা দেবী এবং দিদির হাত ধরে শিলিগুড়ি থেকে প্রথমে চালসা, এবং পরে মালবাজারে আসেন তাঁরা। ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার জেরে দিনরাত এক করে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন শুক্লা দেবী। দিনে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে হতো তাঁকে, আর রাতে রোগীদের দেখাশোনা। এই পরিশ্রমের টাকায় কোনও রকমে তাঁদের সংসার চলত। নিজের সর্বস্ব উজাড় ল্প্রে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর এখন এক কামরার ভাড়া বাড়িতে ছেলেকে নিয়ে কোনও মতে দিন কাটান তিনি।
এদিকে মাধ্যমিকেও মেধা তালিকার কাছাকাছি ফল পেয়েছিলেন রূপায়ণ। তবে উচ্চশিক্ষার জন্য একটি ল্যাপটপ দরকার ছিল তাঁর। সরকার থেকে পাওয়া ট্যাবের টাকা আর অন্যান্য স্কলারশিপ জমিয়েও ল্যাপটপ কেনার টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। এমতাবস্থায় দেবদূতের মতো পাশে দাড়ান রূপায়নের দূর সম্পর্কের এক দাদা মৃন্ময় চট্টোপাধ্যায়। আইআইটি প্রাক্তনী মৃন্ময় বর্তমানে সার্বিয়ায় চাকরি করছেন। তাঁর উপহার দেওয়া ল্যাপটপটি হয়ে ওঠে রুপায়ণের সাফল্যের সবথেকে বড় হাতিয়ার। তিনি জানিয়েছেন যে, ইন্টারনেট দেখেই সমস্ত প্রস্তুতি সেরেছি। পড়ার কোনও ধরাবাঁধা সময় ছিল না। আমার মাথায় যখনই কোনও সমস্যা আসতো তখনই সেটা ইন্টারনেটে সার্চ করে সমাধান করতাম।
আরও পড়ুন: অন্যের সমস্যা মেটাতে গিয়ে নিজেই ক্ষতির মুখে পাকিস্তান! স্বীকার করছেন শেহবাজ
এদিকে ছোটবেলা থেকেই রূপায়ণ ক্রিকেট পাগল ছিলেন। কিন্তু লক্ষ্যের পথে যাতে প্রিয় খেলা বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তার জন্য গত দু’বছর মাঠে গেলেও ব্যাট বলে হাত লাগাননি তিনি। প্রিয় পোষা বিড়ালের সঙ্গে তাঁর ল্যাপটপের পর্দার ওপারের আকাশে জটিল অংকের সমাধানই তাঁর একমাত্র ধ্যানজ্ঞান ছিল। তবে অসাধারণ ফলের পরেও রুপায়ণ অত্যন্ত শান্ত। তিনি বলেছেন, যতদিন না পড়াশোনা শেষ করে একটা কাজ জোগাড় করতে পারছি, ততদিন আমার মাকে কষ্ট করতে হবে। মা সারা জীবন অনেক পরিশ্রম করেছেন। এবার আমি তাঁর দায়িত্ব নিতে চাই।










