অন্যের সমস্যা মেটাতে গিয়ে নিজেই ক্ষতির মুখে পাকিস্তান! স্বীকার করছেন শেহবাজ

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা বোধ হয় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে পাকিস্তানে (Pakistan In Crisis)! হয়তো সে কারণেই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যেকার সংঘাত থামাতে একেবারে উঠে পড়ে লেগেছে ইসলামাবাদ। তাছাড়াও গোটা বিশ্বের কাছে নিজের কৃতিত্ব ফলানোর লক্ষ্য নিয়েই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নিজের দেশে বিশেষ বৈঠক ডেকেছিলেন শেহবাজ শরীফ। যদিও সেই শান্তি বৈঠক ভেস্তে যায়। আর তারপরপরই, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করে নিলেন অন্যের ঝামেলা মেটাতে গিয়ে আদতে ক্ষতি হচ্ছে নিজেদেরই! প্রাক প্রধানমন্ত্রী বললেন, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে চলা যুদ্ধের কারণেই পাকিস্তানের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্যাপক ক্ষতির মুখে পাকিস্তান

Arab News এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি ইসলামাবাদের মন্ত্রিসভায় বক্তব্য রাখার সময় পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ স্বীকার করে নিয়েছেন, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাতের আগে পাকিস্তানের তেল আমদানির খরচ যেখানে 300 মিলিয়ন ডলার ছিল আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তা 800 মিলিয়ন ডলার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা পাকিস্তানের অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে বলেই দাবি সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এও বলছেন গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে পাকিস্তানে পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য গঠন করা হয়েছে টাস্ক ফোর্স। যা বর্তমানে পাকিস্তানে ঘটে চলা সমস্যা পর্যবেক্ষণ করবে। এদিন ইসলামের দেশের প্রধানমন্ত্রী জানান, “পাকিস্তান বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এগিয়ে এসেছিলাম বলেই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। যা আজও বলবৎ রয়েছে। পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে এবং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে যাবে।”

অবশ্যই পড়ুন: ভারতে তৈরি আইফোনে ছেয়ে গেছে বিশ্ববাজার, Apple স্মার্টফোন রপ্তানি পৌঁছল ২ ট্রিলিয়ন রুপিতে

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, খুব শীঘ্রই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যেকার সংঘাত থেমে যাবে। এ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পাকিস্তান সফর করেছেন। সেখানে দুই ঘন্টার বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সাথে বৈঠক হয়েছে তাঁদের। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি আশ্বাস দিয়েছেন, ইরান পাকিস্তানের সাথে হওয়া আলোচনার পর ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। পাক প্রধানমন্ত্রী এও বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পাকিস্তান আবারও ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।

google button