গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির উপরেই নির্ভর করছে ভারতের সাথে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, জানাল বাংলাদেশ

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই ভারতের সাথে সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছিল বাংলাদেশের (Bangladesh)। যদিও ওপার বাংলায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন হতেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ কিছুটা হলেও গলেছে। তবে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের কালো মেঘ কিছুটা সরলেও গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি (Ganges Water Dispute) নিয়ে জটিলতা আজও কাটেনি। অনেকেই মনে করছেন, এই জলচুক্তি সংক্রান্ত সমস্যা না মিটলে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্ক আবারও তলানিতে গিয়ে ঠেকবে! সেই ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা এবং মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গঙ্গা জলবন্টন চুক্তির উপরই নির্ভর করছে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক?

এ বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার গঙ্গা জলবন্টন চুক্তির মেয়াদ। কমবেশি সকলেই জানেন, এই বিশেষ চুক্তির অধীনে ভারত গঙ্গার জল বাংলাদেশকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। তবে সেই চুক্তি আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার আগেই চুক্তিটি পুনর্নবীকরণ করার জন্য চাপ দিচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে বেশ কয়েকবার নরমে-গরমে ওপার বাংলা থেকে নানান বার্তা পেয়েছে নয়া দিল্লি।

এবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির বলিষ্ঠ নেতা তথা মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, “ভারতকে বাংলাদেশ একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে গঙ্গা জলবন্টন যুক্তি চূড়ান্ত করতে হবে। এই চুক্তির উপরেই কিন্তু নির্ভর করছে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে যাবে সেটা।”

অবশ্যই পড়ুন: লক্ষ্য হাওড়া-হুগলি ও আসানসোলের শিল্পোন্নতি, বাংলার জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট

এদিন ওপার বাংলার মন্ত্রী এও বললেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগামীতে কেমন থাকবে সেটা পুরোপুরি নির্ভর করছে গঙ্গা জলবন্টন চুক্তির উপর। তাই যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানের চুক্তিটি কার্যকর রাখতে হবে। বাংলাদেশের ওই মন্ত্রী মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ জলবন্টন ব্যবস্থা কোনও নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সবমিলিয়ে, দ্রুততার সাথে গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ আশা করছে বাংলাদেশ।