সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের বস্ত্র শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিরাট পদক্ষেপ কেন্দ্র সরকারের। আগামী ১০ মে হায়দারাবাদ থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গলে নির্মিত পিএম মিত্র কাকতীয় মেগা টেক্সটাইল পার্কের (Mega Textile Park) উদ্বোধন করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ১৬৯৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প ভারতের শিল্প পরিকাঠামোর নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি এই খাত বাংলাদেশের বিশ্বব্যাপী গার্মেন্টস রফতানির আধিপত্যকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
বিশাল কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা
প্রসঙ্গত, এই মেগা টেক্সটাইল পার্ক শুধুমাত্র শিল্পকেন্দ্র নয়, বরং এটি কর্মসংস্থানের বিশাল উৎস হতে চলেছে। জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে ১৬৯৫ কোটি টাকার হলেও ভবিষ্যতে এখানে ৬০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হতে পারে। যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩৮০০ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, এই পার্কটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বর্তমানে প্রায় ২০০০ মানুষ এখানে ইতিমধ্যেই কর্মরত।
এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি জানিয়েছেন, ১৩২৭ একর জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কটি প্রধানমন্ত্রীর ৫-এফ ভিশন পূরণ করতে সাহায্য করবে। আর এই ভিশনগুলির মধ্যে হল—খামার থেকে তন্তু, তন্তু থেকে কারখানা, কারখানা থেকে ফ্যাশন এবং ফ্যাশন থেকে বিদেশ।
পরিকাঠামো এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা
বল রাখি, এই পার্কের ৬২ শতাংশ এলাকা ইতিমধ্যেই বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পরিকাঠামোর কাজ প্রায় শেষের পথে। আর অভ্যন্তরীণ রাস্তা, পানীয় জল এবং স্ট্রিট লাইটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং ট্রান্সমিশন লাইনের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে। আর পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখে জিরো লিকুইড প্রযুক্তি সহ একটি এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ট্রায়াল রানও চলছে।
চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাত
না বললেই নিয়, এই পার্ক এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে বাংলাদেশের বৈশ্বিক গার্মেন্টস রফতানির আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করবে বলে মত প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ডিউটি ফ্রি বা বিনা শুল্কের সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। আর এই সময় ভারতের নতুন টেক্সটাইল পার্ক ভারতের গার্মেন্টস রফতানি ক্ষমতা যে বহুগুণ বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।










