সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সম্প্রতি ফেসবুক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ‘ফ্রেন্ডস’ ভিডিও সরিয়ে বিতর্কে পড়েছিল মেটা। এমনকি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সেই ভিডিও সরানো হয়েছিল, এমনটা দাবি করে ভারত সরকারের কাছে ক্ষমাও চায় সংস্থা। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকটি এআই ভিত্তিক বিকৃত ভিডিও এবং খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার কারণে মেটার বিরুদ্ধেই এফআইআর ভারতীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের। এমনকি মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান সহ বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধেই করা হয়েছে অভিযোগ।
মোদীর ভিডিও বিতর্ককে কেন্দ্র করে মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে গোটা দেশে তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই লোকসভায় পেশ করেছে প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল। সেই তথ্য আগেভাগে জানানোর জন্যই গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশ্নফাঁস রুখতে এবার ভারত সরকার কঠোর আইন আনছে। এমনকি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হচ্ছে। তবে সেই ভিডিও পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে লেখা ওঠে, ‘আইনি অনুরোধের কারণে এই পোস্টটি ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না।’
কিন্তু পরে মেটা জানায়, প্রযুক্তিগত কিছু ত্রুটির কারণে ভিডিওটি কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরে তা আবার রিকভার করে দেওয়া হয়। এমনকি তারা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা পর্যন্ত চায়। কিন্তু মেটার এই ভুল কোনও ভাবেই যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে না এমনই দাবি জানায় ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এরকম একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের পোস্ট মুছে ফেলে তা যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবে চালানো যায় না। মেটাকে এর জবাবদিহিতা করতে হবে।
শুধু এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি এই ভিডিও বার্তা মুছে দেওয়ার মধ্যেই এআই-র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কিছু ভুয়ো এবং বিকৃত ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছিল। পুলিশের দাবি, এই ভিডিওগুলি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। সংস্থার নিজস্ব ফিল্টারিং ব্যবস্থা থাকলেও কীভাবে দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীর এরকম বিকৃত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে? এই দাবি তুলেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং আইটি আইনের আওতায় মেটার বিরুদ্ধে করা হয়েছে মামলা।
আরও পড়ুন: “লিখিতভাবে সরকারকে জানালে মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার”, দাবি অগ্নিমিত্রা পালের
যদিও পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মেটা। সেখানে তাদের স্পষ্ট দাবি, এটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টগুলির নিরাপত্তায় এখন আরও বেশি করে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এমনকি এবার থেকে এই সমস্ত অ্যাকাউন্টের কোনও পোস্ট নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে অ্যালগরিদম তা মুছতে পারবে না। শুধুমাত্র মেটার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা কয়েক দফা খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এমনকি এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহের শেষে কেন্দ্রীয় সরকার এবং মেটার মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলেই খবর।










