সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের পরপর পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে গোটা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বহু দেশ নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দিয়েছে। আর এই প্রস্তুতিতে ভারতও বিরাট পদক্ষেপ নিতে চলেছে। দেশের পরিশোধন ক্ষমতা বাড়াতে রাজস্থানে এবার নতুন একটি অত্যাধুনিক গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি (Rajasthan Greenfield Refinery) চালু হচ্ছে, যা ভারতের জ্বালানি খাতে একেবারে মাইলফলক হিসেবে দাঁড়াতে পারে।
রাজস্থানে উদ্বোধন হচ্ছে অত্যাধুনিক রিফাইনারি
শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজস্থানের বালোতরা জেলার পাচপদরা এলাকায় এইচপিসিএল রাজস্থান রিফাইনারি লিমিটেডের নতুন গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি এবং পেট্রো ক্যামিকেল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করবেন বলেই খবর। এটি ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান অয়েলের পারাদীপ রিফাইনারির পর দেশের সবথেকে বড় নতুন গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি প্রকল্প। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রায় ৭৯ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
সবথেকে বড় ব্যাপার, নতুন রিফাইনারিটির বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন ক্ষমতা হবে ৯০ লক্ষ মেট্রিক টন। এমনকি এর পাশাপাশি বছরে ২৪ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোক্যামিকেল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা পূরণ হবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারত আরও বেশি পরিমাণ পেট্রোল-ডিজেল বা অন্যান্য পেট্রোলিয়াম বা পণ্য রফতানি করার সুযোগ পাবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর মতে, এই প্রকল্প এমন সময় চালু হচ্ছে, যখন বিশ্বের বহু দেশে রিফাইনারি কার্যক্রম কমে আসছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৩ সালের পর বড় কোনও নতুন গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি তৈরি হয়নি। এমনকি ইউরোপে একাধিক রিফাইনারি ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং চিনের শানডং প্রদেশেও ছোট রিফাইনারিগুলির কার্যক্রম কমানো হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভারতের নতুন রিফাইনারি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দেশের অবস্থানকে যে আরও শক্তিশালী করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও পড়ুন: ফিরছে টাটা! বাংলায় ২১০০ কোটির বিনিয়োগের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পূর্ববর্তী একটি প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে নতুন রিফাইনারি ক্ষমতা আরও বাড়লেও একই সময় বহু পুরনো রিফাইনারি বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রিফাইনারি স্থাপনের ক্ষেত্রে ভারত প্রধান দেশ হিসেবে উঠে আসছে। বিশেষ করে চিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার কারণে সেখানে নতুন রিফাইনারি তৈরির গতি কিছুটা কমতে পারে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










