জ্ঞানেশ কন্যাকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ, এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মেধা রূপম

Published:

Medha Roopam

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করার ঘটনায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিলেন গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক তথা দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা মেধা রূপম (Medha Roopam)। এমনকি একইসঙ্গে তাঁকে ওই ছাত্রীকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন জ্ঞানেশ কন্যা।

সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মেধা রূপম

আসলে গত এপ্রিল মাসে নয়ডার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আয়োজিত এক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে ২৪ বছর বয়সী সমাজ কর্মী এবং আইনের ছাত্রী আকৃতি চৌধুরী এবং অপর এক সমাজকর্মী সত্যম বর্মার বিরুদ্ধে গত ১৩ মে জেলাশাসক মেধা রূপমের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করেছিল। তবে আদালত জানিয়েছিল, এমন সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র যুক্তিহীন। এতে মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারকেও হস্তক্ষেপ করে। তিনি একজন প্রশাসনিক আধিকারিক হিসেবে কীভাবে এমন কাজ করেন?

সেই ইস্যুতেই আকৃতিকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি সেই অর্থ মেধা রূপম-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বেতন থেকে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ এবং বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয় যে, কোনও রকম বিচার বিবেচনা ছাড়াই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা আকৃতির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। এমনকি মামলার শুনানিতে আমলা এবং পুলিশদের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।

আরও পড়ুন: স্বামীর বয়স ৪৫, স্ত্রীর ১০৬! ১৪ বছর ধরে ভোগান্তির শিকার পশ্চিম মেদিনীপুরের মহিলা

তবে এবার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ মেধা রূপম। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, পুলিশের রিপোর্টে পর্যাপ্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও জেলা শাসক নথিপত্র যাচাই না করে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে। এমনকি আকৃতির বিরুদ্ধে কোনও পূর্ববর্তী অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না এবং তিনি হিংসায় উস্কানি দিয়েছেন, এমনও কোনও প্রমাণ মেলেনি। জেলাশাসকের এই পদক্ষেপকে ‘বিদ্রুপের যোগ্য’ বলেই আখ্যা দিয়েছিল হাইকোর্ট। তবে এবার আইনি লড়াই গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে খবর।