প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রেশনে পাওয়া যাবে ৩৫ কেজি চাল-গম! প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা প্রকল্প (Pradhan Mantri Garib Kalyan Anna Yojana) এমনই সুবিধা এনে দিয়েছে দরিদ্র সাধারণের জন্য। জানা গিয়েছে, এই অন্ন যোজনা প্রকল্প, ভারত সরকার (Central Government Of India) কর্তৃক চালু করা একটি খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প যা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর মানুষদের, বিশেষ করে দারিদ্র্যসীমার নীচে এবং অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা সুবিধাভোগীদের বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করে থাকে। একনজরে এই প্রকল্প সম্পর্কে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
মাসে বিনামূল্যে মিলবে ৩৫ কেজি চাল-গম!
রিপোর্ট অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ২০২০ সালের ২৬ মার্চ, দরিদ্র পরিবারগুলির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা প্রকল্প, যা বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি। সেই সময় থেকে এই প্রকল্পের কারণে প্রায় ৮১.৩৫ কোটি মানুষ উপকৃত হয়ে আসছে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায়, যোগ্য রেশন কার্ডের প্রতিটি সদস্য বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পেয়ে থাকেন। এই প্রকল্পের অধীনে মাসে পাওয়া যায় ৩৫ কেজি চাল-গম।
অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনায় মিলবে বড় সুবিধা
PMGKAY সুবিধাগুলি মূলত NFSA, ২০১৩ এর আওতাভুক্ত পরিবারগুলির জন্য দেওয়া হয়ে থাকে অর্থাৎ অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY), গ্রামীণ এলাকার দরিদ্রতম পরিবার, যেমন ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক, প্রান্তিক কৃষক, গ্রামীণ কারিগর, বস্তিবাসী, দিনমজুর এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাঁরা মাসে ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবারগুলি (PHH) মাথাপিছু মাসে ৫ কেজি খাদ্যশস্য পায়। প্রকৃতপক্ষে, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA) অনুযায়ী এই প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স, ফুড অ্যান্ড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন’ মন্ত্রক পরিচালনা করে থাকে।
আরও পড়ুন: মিলবে বেতনের ১০০% পেনশন, থাকবে বাছার সুযোগ! অষ্টম পে কমিশন নিয়ে বড় খবর
কারচুপি রুখতে বড় পদক্ষেপ
PMGKAY বা প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা প্রকল্পে আবেদন করার জন্য নিজ নিজ রাজ্যের ‘খাদ্য ও সরবরাহ দফতর’ বা ‘মাই স্কিম’ পোর্টালের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করে আবেদন করা যেতে পারে। এছাড়াও, অফলাইন প্রক্রিয়ার অধীনে নিকটতম খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ অফিস বা রেশন ডিলারের সাথে যোগাযোগ করে নিতে হবে। এদিকে রেশনের কারচুপি ঠেকাতে বর্তমানে দেশের ৯৯ শতাংশ ন্যায্যমূল্যের দোকানেই ‘পয়েন্ট-অফ-সেল’ মেশিন বসানো হয়েছে, বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে রেশন। এতে কারচুপি যেমন কমেছে, তেমনই প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছানো নিশ্চিত হয়েছে।










