সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ দুই বছর পর আজ প্রথম ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। দিল্লি থেকেই তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলেই খবর। এই অনুষ্ঠানটি হবে নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে। তবে একজন ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা ভারত সরকার সমর্থন করে কিনা তা স্পষ্টভাবে জানতে চাইল ঢাকা।
হাসিনার বক্তৃতা নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইল ঢাকা
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন ওপার বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই দিল্লিতে রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে মহম্মদ ইউনূস জমানায় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয় হাসিনার আওয়ামী লীগ। এমনকি জুলাই গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। তবে দীর্ঘ দু’বছর পর আজ প্রথমবার ভাষণ দেবেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। আর সেখানেই আপত্তি ওপার বাংলার।
ঢাকার তরফ থেকে বিবৃত জারি করে জানানো হয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের কোনও নেতা, ব্যক্তিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। এমনকি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান জানিয়েছেন, হাসিনার ফিরে এসে আইন মেনে চলা উচিত। এই বিষয়ে ভারত সরকারকে একটি লম্বা চিঠি লেখা হয়েছে। এমনকি ভারতীয় হাই কমিশনের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে, দেশে ফিরলেই হাসিনাকে গ্রেফতার করা হবে।
তবে হাসিনার বক্তৃতা নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আপনারা যে অনুষ্ঠানের কথা বলছেন সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করেছে। এতে ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। এই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনও মতামতকে ভারত সরকার সমর্থন করবে না।”
আরও পড়ুন: ফের অভিষেককে ঘাড়ধাক্কা হাইকোর্টের! বিদেশযাত্রার অনুমতি পেলেন না তৃণমূল সাংসদ
যদিও এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তৃতায় তারেক রহমানের সরকার আপত্তি জানাবে কিনা সেই বিষয়ে ওপার বাংলা সরকারের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, “আমরা কার কাছে আপত্তি জানাবো? নিষিদ্ধ একটা সংগঠন প্রধান অনেক অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। উনি কখন, কোথায় কী করছেন বা বলছেন, তা দেখার মতো সময় বাংলাদেশ সরকারের নেই। আমরা যেটা ফলো করছি যে ভারত সরকার সম্প্রতি একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা বলছে, তারা আশা করছে না যে একজন পলাতক ও রাজনৈতিক আসামি বক্তব্য রাখবেন, এবং সেটা ভারত সরকার সমর্থন করে না। কিন্তু সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।”










