সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার কি ভারতেও ১৬ বছর কিংবা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ব্যান করা হবে? আসলে এই নিয়ম লাগু হওয়া বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ অস্ট্রেলিয়া। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদী (Narendra Modi) অস্ট্রেলিয়া সফর করে দেশে ফিরেছেন। সফরকালীন সময়ে দেশটির এই পদক্ষেপকে শিক্ষনীয় অভিজ্ঞতা বলেই দাবি করেন তিনি। এদিন মেলবোর্নে ভারত-অস্ট্রেলিয়া শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ থেকে ভারত সহ অন্যান্য দেশ অনেক কিছুই শিখেছে। সেই সূত্রেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার হয়তো ভারতেও এই নিয়ম চালু করা হতে পারে।
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ব্যান সোশ্যাল মিডিয়া?
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী মেলবোর্নে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এমনকি মোদী অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে বলেন, তথ্য প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সমাজকে রক্ষা করার জন্য অস্ট্রেলিয়া গোটা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কয়েক মাস আগেই নিশ্চিত করেছিল যে তারা শিশুদের জন্য বয়সভিত্তিক কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করবে, এবং সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক সহ ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে এই নিয়ম চালু হয়েছে বলেও খবর।
জানিয়ে রাখি, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছর কিংবা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কার্যকর হওয়া এই আইনটি গোটা দেশজুড়ে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার থেকে শুরু করে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলিতে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে দেয় না। ব্যবহারকারীর বয়স কঠোরভাবে যাচাই করতে বিভিন্ন রকম ভেরিফিকেশনও করা হয়।
আরও পড়ুন: ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, পাল্টা হামলা মার্কিন বাহিনীর
অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তের পর অনেক দেশই একই নিয়মের পথে হেঁটেছে। যেমন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং ও লাইভ স্ট্রিমিং নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করেছেন। তাছাড়া কানাডা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে। এবার সেই সূত্র ধরেই শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু অনুমান করা হচ্ছে, ভারতেও শিশুদের শিক্ষা এবং ডিজিটাল বিকাশের অগ্রগতিকে মাথায় রেখে এই নিয়ম কার্যকর করা হতে পারে।










