সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে হচ্ছেটা কী? আবারও হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধের ঘোষণা ইরানের। পণ্যবাহী জাহাজে হামলার জেরেই বড় পদক্ষেপ নিল তেহরান। ফলত, পশ্চিম এশিয়ায় ঘনাচ্ছে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ। এমনকি ইরানের ঘোষণার পরেই মার্কিন সেনাবাহিনী হামলা শুরু করেছে। যার ফলে গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতির চুক্তি আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে।
ফের হরমুজ বন্ধের ঘোষণা
এবার ইরানের বিরুদ্ধেই পণ্যবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ। জবাবে তেহরানে আক্রমণ চালিয়েছে আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত। সেই সূত্র ধরেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড হরমুজ বন্ধের ঘোষণা করেছে। ইরানের দাবি, একটি জাহাজ অনুমোদনহীন পথে প্রণালী অতিক্রম করছিল। সেই কারণে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গুলি চালানো হয়। কিন্তু মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, বেসামরিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান হামলা চালাচ্ছে। সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবেই হামলা চালিয়েছে। এমনকি এতে এক নাবিক নিখোঁজ।
তবে সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তেহরানে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটায় আমেরিকা। এমনকি ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলের বুশেহর এবং আসালুয়েহ এলাকায় তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি চাবাহার বন্দরের কাছের এলাকা বিস্ফোরণের তীব্রতায় কেঁপে উঠেছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর। সবমিলিয়ে মোট ১০টি বিস্ফোরণ হয়েছে বলেই দাবি করছে ইরানের সংবাদমাধ্যম।
আরও পড়ুন: হলদিবাড়ির স্কুলছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ৭৬০ কোটি টাকা! ব্যালেন্স দেখে চক্ষু চড়কগাছ নাবালিকার
যদিও মার্কিন হামলার আগেই হরমুজ বন্ধের ঘোষণা করে তেহরান। আসলে সম্প্রতি আমেরিকা ইরানের কাছে প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল যে হরমুজ খোলা রয়েছে এবং সেখানে দিয়ে যাতায়াতকারী কোনও জাহাজে হামলা চালানো হবে না। কিন্তু তাতে কোনও সমাধান হয়নি। এমনকি দিন কয়েক আগেই ট্রাম্প ‘যুদ্ধ বিরতি শেষ’ এই ঘোষণা করে হামলা চালায় ইরানে। তবে সেই অস্থিরতার মধ্যেই এবার প্রণালী বন্ধের পথে হাঁটল তেহরান। যার জেরে বিশ্বজুড়ে আবারও জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।










