সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন লোকাল ট্রেনের উপর নির্ভর করে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছয়। সে অফিস অফিস হোক কিংবা ভ্রমণ, লোকাল ট্রেনই ভরসা। তবে এবার আমজনতার যাত্রাকে আরও দ্রুত ও আরামদায়ক করার জন্য বিরাট পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় রেল (Indian Railways), যা লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রীকে পুরনো লোকাল ট্রেনের ঝামেলা থেকে মুক্তি দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, রেল কর্তৃপক্ষ সেমি হাই-স্পিড বন্দে মেট্রো (Vande Metro) বা নমো ভারত র্যাপিড রেল চালু করেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, যেগুলি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণরূপে বদলে দিচ্ছে। এই বিশেষ ট্রেন সম্পর্কে জানাবো এই প্রতিবেদনে।
লোকাল ট্রেনের জায়গা নিচ্ছে নমো ভারত (বন্দে মেট্রো)
রেলওয়ে বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্দে মেট্রো যা পরে নমো ভারত র্যাপিড রেল নামে পরিষেবা শুরু করে, এটি একটি সেমি হাই-স্পিড রেল। প্রথম পর্যায়ে দিল্লি-মিরাট, লখনৌ-কানপুর এবং মুম্বাই-লোনাভালার রুটে এটি চলাচল করছে। তবে খুব শীঘ্রই তা বাংলা সহ গোটা দেশে পরিষেবা শুরু করবে বলেই জানা যাচ্ছে।
সবথেকে বড় ব্যাপার, নমো ভারত ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার, যেখানে লোকাল ট্রেনের গতি আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার। এর ফলে যাত্রীদের আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সময় সাশ্রয় হচ্ছে এবং দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকটাই সহজ হচ্ছে। বড় কথা, এই ট্রেনগুলির প্রত্যেকটি কোচ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। এমনকি আরামদায়ক আসন থেকে শুরু করে মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট, আধুনিক শৌচাগার, স্বয়ংক্রিয় দরজার মতো ফিচার রয়েছে। না বললেই নয়, নমো ভারত যে যে রুটে চলছে সেখান প্রত্যেকটিতে কবচ প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার কোনও সম্ভাবনাই থাকবে না।
আরও পড়ুন: মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার জেরে প্রচার স্থগিত, সূচি বদলে ঝাড়গ্রামে যাচ্ছেন অভিষেক
বন্দে মেট্রো বা নমো ভারত বিশেষ করে অধিক যাত্রী ধারণ করার মতোই ডিজাইন করা হয়েছে। এই ট্রেনটিতে রয়েছে ১৬টি বগি আর প্রায় ১৫৬৬টি সিট। পাশাপাশি মোট ধারণক্ষমতা আনুমানিক ৪৩৬৪ জনের। দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের জন্যও রয়েছে পর্যাপ্ত জায়গা। এবার ভাড়া নিয়ে যদি কথা বলি, তাহলে এই ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া ৩০ টাকা যা লোকাল ট্রেনের থেকে কিছুটা হলেও বেশি। তবে অতিরিক্ত সুবিধা নিতে গেলে ভাড়া একটু বেশি গুনতে হবে এটাই স্বাভাবিক।










